Published : 11 Jun 2026, 10:29 PM
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এনসিপির এক নেতাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় ছোড়া ইটের আঘাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ জানায়, সকালে জীববিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ হোসেন (২৮) তার হবু স্ত্রীকে নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
তার হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তিনি প্রত্যেক পরীক্ষায় কেন্দ্রে ঢুকে বিভিন্নভাবে তার স্ত্রীকে সহায়তা করে আসছেন বলে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে।
কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আশরাফ হোসেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আশরাফকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত আহত হন। আহত হয় এক পরীক্ষার্থীও।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আশরাফ হোসেনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়।
আহত পরীক্ষার্থী সাজিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এনসিপির ওই নেতা পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে এসে তার হবু স্ত্রীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক আশরাফ হোসেনের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছোড়া ইটের আঘাতে আমি আহত হই। পরে পুলিশ এসে আশরাফকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আশরাফ হোসেনের বাগদান হয়েছে। তাকে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে এসে তিনি হলের ভেতরে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।”
এনসিপি নেতা আশরাফ বলেন, “আমার হবু স্ত্রীকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী যারা পরীক্ষা দিতে এসেছিল তারা আমার হবু স্ত্রীকে ইভটিজিং করে। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার উপর চড়াও হয়।”