Published : 15 Jun 2026, 01:24 PM
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হলেও আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা হয়নি।
সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে প্র্যাক্টিস করতে পারবে। তাদের আরো হাসপাতাল আছে, সেখানে নিতে পারে। অমানবিক সেবার কারণে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল আয়োজিত এক আলোচনার সভায় যোগ দিতে এদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানেই আদ-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার কথা হয়।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। তিন দিনের মধ্যে রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিতে বলা হয়।
তবে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ যে বন্ধ হচ্ছে না, সে কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেখানে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল থাকার শর্ত রয়েছে। এ ছাড়া মেডিকেল কারিকুলাম অনুযায়ী, তৃতীয় বর্ষ থেকেই হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক বছরের নবিশকালও থাকে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন রোববার সাংবাদিকদের বলেন, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজকে এখন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য যে কোনো বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে হবে। তারা নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সে হাসপাতালে নিয়ে যাবে এবং নিয়ে আসবে।
আদ্-দ্বীন কোন হাসপাতালের সঙ্গে কাজ করতে চায়, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।
হামের টিকা
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “হামের টিকাদানে শতভাগ স্বার্থক। পুরো দেশে শতভাগের বেশি টার্গেট আমরা অর্জন করেছি। টিকাদান আমরা থামিয়ে দিইনি। ঈদের আগে থেকে প্রতিদিন আমরা ডেকে ডেকে টিকা দিয়েছি, মাইকিংও করা হয়েছে। ইপিআই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এখনও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। হাম একেবারে শেষ হবে না, গত পরশু দিন ৭০০ ছিল, আবার গতকাল ১ হাজারে উঠেছে। অনেক সময় জ্বর হলে হামে আক্রান্ত হয়। পরীক্ষিত সন্দেহজনক মৃত্যু আসছে ৫, ৪, ৩ জন। হামে মৃত্যু গত সপ্তাহ ধরে শূন্য রয়েছে।”

ই-সিগারেটের কী হবে?
ই-সিগারেট বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আলোচনা চলছে। পরে দেখা যাবে।”
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “তামাক একটি আসক্তি, এটা জানতে কারো ভুল নাই। যারা ধূমপান করেন, তারাই বড় সাক্ষী হতে পারেন; এটা কত খারাপ। তামাক মানুষের ঘুম নষ্ট করে, ক্ষুধা কমিয়ে দেয়, ওজন কমিয়ে দেয়। সেইসঙ্গে শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নাই যেটা আক্রান্ত করে না।”
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার প্রথম তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছিল এবং বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে।
নতুন আইনে সব ধরনের গণমাধ্যম, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাটক, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি 'তামাকমুক্ত বাংলাদেশ' গড়ার প্রত্যয় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 'গ্লোবাল টোবাকো এপিডেমিক রিপোর্ট ২০২৫'-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৭০ লাখের বেশি মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায় এবং প্রায় ১৬ লাখ অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যও জরুরি। নতুন আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি।
তিনি তামাক চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বর্জ্যের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব, 'গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস' এবং তামাকজনিত প্লাস্টিক দূষণের চিত্র তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহামেদ।
মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে রমনা পার্ক সংলগ্ন রাস্তার পাশে ও মৎস্যভবন মোড়ে একটি অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তামাকবিরোধী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন অফিস, গার্লস গাইডস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট এবং বিভিন্ন তামাকবিরোধী আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংস্থার প্রায় দুই শতাধিক প্রতিনিধি এ আয়োজনে অংশ নেন।