Published : 31 Jul 2025, 10:18 PM
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে প্রক্টর ও প্রভোস্টসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, শেখ রাসেল ও বিজয় দিবস হল।
বুধবার রাত ১টার দিকে বিজয় দিবস হলে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে এই সংঘর্ষের শুরু হয়। পরে নির্ধারিত শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।
আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজীব, বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওবায়দুল ইসলাম ও শাহিনুর রহমান এবং ইতিহাস বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক।
আহতদের মধ্যে গুরুতর সাতজনকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা, স্ট্যাম্প, ব্যাট, হকিস্টিক ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে শেখ রাসেল হলে হামলা চালানো হয় বলে দাবি প্রতিপক্ষ শিক্ষার্থীদের। ভাঙচুর করা হয় বিভিন্ন কক্ষের জানালা।
অন্যপক্ষ পাল্টা হামলা চালিয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতা শফিকের কক্ষের আসবাবপত্র বাইরে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “অ্যাকাডেমিক ভবনে প্রোগ্রাম চলাকালে আমাদের বিভাগের দুই থেকে তিনজন জুনিয়র সামনে চেয়ার নিয়ে বসতে যান। তখন আমাদের অন্য জুনিয়ররা বলেন, ‘ভাই, আপনি এমনি সামনে বসলে তো আমরা কিছু দেখতে পারি না।’ এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে তখনই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।
“এরপর আমরা সবাই রুমে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে ৪০ থেকে ৫০ জন ছেলে আমাদের ধাওয়া দেয়। আমরা দৌড়ে বিজয় দিবস হলে আশ্রয় নেই। কিন্তু ওরা বাঁশ ও কাঠ নিয়ে বিজয় দিবস হলে ঢুকে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা মার খাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে হল থেকে বের হয়ে শেখ রাসেল হলের দিকে যায়।”
প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজীব বলেন, “হামলার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হল প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সভা করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
“যেহেতু ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আছে, সবকিছু আছে, আইউকনেস আছে। তাই এ ঘটনায় কারা জড়িত সেটা খুঁজে বের করা কঠিন কিছু না। তদন্তে যাদের নাম উঠে আসবে, সবাইকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে, এটা উপাচার্যের ম্যাসেজ।”
বৃহস্পতিবার ‘নবনীতক-৯’ শিরোনামে আয়োজিত শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে জানান প্রক্টর।