১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিস্টের খাবার নিয়ে’ উত্তেজনা, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

“হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ শিপলুসহ আরও অনেকে ছিলেন।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 01:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ দিবস উপলক্ষে ‘ফিস্টে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনকে’ কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। 

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্যসচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলের অফিস কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত বলছেন, “ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী সোমবার আবারও ফিস্টের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টোকেন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

ঘটনার বর্ণণায় হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি একজনের জন্য একটি খাবারের প্যাকেট নিতে নিচে নামি। এ সময় শহীদ তিতুমীর হল থেকে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বাধীনতা দিবস হলের গেটের সামনে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় কয়েকজনের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী হলের অফিস কক্ষের সামনে আমার ওপর হামলা করে।” 

তার ভাষ্য, “হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ শিপলুসহ আরও অনেকে ছিলেন।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া মাহমুদ শিপলু বলছেন, “আমি কোনো হামলা করি নাই; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি মাত্র। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।”  

কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল- জানতে চাইলে স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, “ঘটনার সময় আমি ও আমার অফিস সহকারী নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে শুনেছি যে, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”

শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট নাসির উদ্দিন বলছেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। মিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়া হবে। সোমবার পুনরায় ফিস্টের আয়োজন করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম আহসান বলেছেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। হাবিবুর রহমান প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপাচার্য নাজমুস সাদাত জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “প্রয়োজনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”