১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উজানের ঢল: দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে আসছে গাছের গুঁড়ি

“রোববার দুপুর থেকে গাছগুলো ভেসে আসতে শুরু করেছে। যে যা পারছে, তুলে নিচ্ছে।”

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2025, 05:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে আসছে গাছের গুঁড়ি।

রোববার ও সোমবার ভোর রাত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এ দুই নদের তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ভেসে আসতে দেখা যায়।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা ও শালঝোড় এলাকায় দুধকুমার নদীর পাড়ে এবং চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে আসা গাছ সংগ্রহ করছেন নদী তীরবর্তী মানুষরা।

এর মধ্যে কাটা গাছ ছাড়াও শিকড়সহ উপড়ে আসা বড় বড় গাছও রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, উজানের বনাঞ্চল থেকে পানির তীব্র স্রোতে গাছের এসব গুঁড়ি ভেসে এসেছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের তিস্তা, দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং স্রোতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন এক ব্যক্তি।

কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদীর পানি ২ মিটার বেড়ে সোমবার সকালে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে তিস্তা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

তিনি বলেন, “মঙ্গলবার পর্যন্ত নদনদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় ধরনের বন্যার কোন আশঙ্কা নেই।”

দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী লোকজন বলেন, ভেসে আসা অধিকাংশ গাছ কেটে রাখা অবস্থায় ছিল। আবার কিছু গাছ শেকড়সহ উপড়ে এসেছে। তীব্র স্রোতে বনাঞ্চল থেকে এসব গাছ ভেসে আসতে পারে।

চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি এলাকার ৫০ বছর বয়সী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “নদীতে গাছ ভেসে আসছে। আমিও দুইটি গাছের গুঁড়ি পেয়েছি।”

স্থানীয় লেবু মিয়া ও নুর ইসলাম বলেন, নদীর পানির ওপর খালি গাছ আর গাছ। মাঝে মধ্যে মরা গরুও ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে, যেন অলৌকিক কিছু ঘটছে।

আবু সাইদ নামের স্থানীয় একজন বলেন, “রোববার বিকাল ৩টার দিকে গাছগুলো ভেসে আসতে শুরু করেছে। যে যা পারছে, তুলে নিচ্ছে।”

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, “সোমবার ভোর রাতে নদীর পানিতে ভেসে আসছে অসংখ্য গাছের গুঁড়ি। যে পাচ্ছে সেই নিয়ে যাচ্ছে।”

শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, “এখন নদীতে শুধু গাছ আর গাছ। লোকজন নৌকা নিয়ে গাছ ধরে আনছে।

“এত গাছ কোথা থেকে আসছে বোঝা যাচ্ছে না। এগুলো ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকেই এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”