Published : 08 May 2026, 07:14 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি সংশোধনের সুযোগ আছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, “চুক্তি বাস্তবায়নের সময় যদি দেখা যায়, কোনো ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে নয়, তবে চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তিতে আবেগ নয়, বাস্তবতা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।”
শুক্রবার সকালে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকে করা প্রশ্নে জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “চুক্তি হয় দুটি দেশের মধ্যে। যদি দুইজন ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি হত, তাহলে হয়ত চট করে সেটি রদবদল করা যেত। দুটি রাষ্ট্র যখন চুক্তি করে, তখন সেটা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যায় না।”
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে উভয়পক্ষের স্বার্থই বিবেচনায় নেওয়া হয় জানিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, “কিছু ধারা এক পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য। এভাবেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করে চুক্তি হয়।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বাণিজ্য চুক্তি করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজেলের দাম লিটারে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা হলেও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি হবে না।
তবে মন্ত্রীর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বৃদ্ধি অতিরঞ্জিতভাবে দেখানো হচ্ছে। পরিবহন খরচে সামান্য প্রভাব পড়লেও সব পণ্যের দামে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে ‘স্পেকুলেটিভ ইনফ্লেশন’ বা অনুমাননির্ভর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক থাকাতে হবে।
বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গায় একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে ক্যাবল কার, ঝুলন্ত সেতুসহ নানা আকর্ষণ থাকবে; যা দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বাইশটিলাকে নতুন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।