ফরিদপুরে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার কাজ বন্ধ
চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
ফরিদপুরে আইনজীবীরা ‘কোর্ট বর্জন’ করায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
দুদিন ধরে মামলার শুনানি না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
এক বিচারকের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বুধবার চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু।
তিনি বলেন, “চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তাই সমিতি মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট পিলু বলেন, “আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও, বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।”
বিষয়টি সমাধান করতে জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট পিলু বলেন, “জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দারের আহ্বানে আমরা আলোচনায় বসেছি৷ আমাদের দাবি, ওই বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত উক্ত আদালতের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন চলবে।"
এদিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আদালতের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকলেও আইনজীবীরা না আসায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম শুরু হতে দেখা যায়নি।
জেলার আলফাডাঙ্গা থেকে আসা এক বিচার প্রার্থী বলেন, “এই আদালতে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন চলছে এটা জানা ছিল না, আমি শহরে এসেছি ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে। বিষয়টি আগে জানা থাকলে এতো কষ্ট করতে হতো না।”
একই রকম কথা বলেন সালথা থেকে আসা আরেক বিচারপ্রার্থী। তিনি বলেন, আদাতে বিজ্ঞ বিচারক ও আইনজীবীদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। কারণ কোর্টে যে পরিমাণ মামলার জট তাতে যদি এভাবে আইনজীবীরা কর্মসূচি দেন তাহলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
