“প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে যা জানা গেছে তাতে ধারণা করছি, গরুটি মরা ছিল।”
Published : 11 Jul 2024, 04:08 PM
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় মরা গরু জবাই দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় এক কসাইকে সাতদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয় বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিলা রহমান জানান।
দণ্ডিত আবুল কালাম তালুকদার বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর গ্রামের শামসুল হক তালুকদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বুধবার রাতে গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া এলাকা থেকে একটি সুস্থ ও একটি অসুস্থ গরু মিনি ট্রাকে করে আগরপুর বাজারের কসাই সেন্টু হাওলাদার নিয়ে আসে। পথে অসুস্থ গরুটি মারা যায়। পরে সুস্থ গরু বাজারে রেখে মৃত গরুটি আগরপুর গ্রামের সোহান ফকিরের বাড়িতে নিয়ে জবাই করা হয়।
প্রতিবেশিরা টের পেয়ে ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়। প্রথমে পুলিশকে অবহিত করা হয়। তারা ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন প্রতিবেশিরা। তার নির্দেশ পেয়ে পুলিশ এসে জবাই করা গরু উদ্ধার ও একজনকে আটক করে।
ইউএনও শাকিলা বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে মরা গরু জবাই দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে পুলিশ জবাই করা গরুসহ কসাইকে আটক করে। তবে গরুটি মৃত ছিলো কি-না নিশ্চিত হওয়ার জন্য, মাংস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।”
“আপাতত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু জবাই দেওয়ার অভিযোগে কসাইকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া জবাই করা পশুর মাংস নষ্ট করার জন্য উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, “পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত বলতে পারবো, গরু মরা ছিল কি-না। তবে আশেপাশের ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে যা জানা গেছে, তাতে ধারণা করছি, গরুটি মরা ছিল।
“অসুস্থ গরু জবাই দেওয়াও অপরাধ। তাই গরুর মাংস উদ্ধার করে কেরোসিন দিয়ে নির্জন স্থানে পুঁতে ফেলা হয়েছে।”
বাবুগঞ্জের আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনজিৎ চন্দ্র শীল বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা পরোয়ানায় দণ্ডিত কসাই আবুল কালাম তালুকদারকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।