Published : 07 Jun 2025, 05:18 PM
কোরবানির দিন গরু-ছাগল কাটাকাটি করতে গিয়ে আহত হয়ে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা ‘একদিনের কসাই’। শখের বশে কোরবানির গরু ছাগল কাটতে গিয়ে বেশির ভাগের আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পেশাদার কসাইরাও আছেন আহতদের তালিকায়।
আহতরা বলছেন, মাংস কাটাকাটিতে অনভিজ্ঞ হওয়ায় তাদের হাত-পা কেটেছে। গুরুতর আহতদের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর যেতে হচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার ধনপুর ইমরান আহমেদ আহমেদ বলেন, “ঈদের খুশিতে বাড়ির সবাই মিলে কোরবানি দেই। তারপর মাংস কাটার সময় আঙ্গুল কেটে যায়। প্রথমে টের পাইনি, পরে দেখি রক্ত ঝরছে। হাসপাতালে গিয়ে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।”
সদর উপজেলার ভুবন ঘর এলাকার চল্লিশোর্ধ্ব কাশেম তালুকদার গরুর হাড় কাটতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন হাতের কব্জিতে। তিনি বলেন, “আল্লাহ বাঁচিয়েছে, আরেকটু জোরে লাগলে আমার হাতের কব্জি হয়ত আলাদা হয়ে যেত।”
জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
টিক্কার চর এলাকার মো. রাসেল বলেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া মাংস কাটতে গেলে এরকম দুর্ঘটনা ঘটবেই। কারণ মাংস কাটাকাটি সময় ছুরি বা চাপাতি পিছলে হয়ে যায়। তাই অভিজ্ঞতা ছাড়া এ কাজে না আসাই ভালো।
ঝাউতলা থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন কসাই জাহঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “হাড্ডি কোপাতে গিয়ে আমার পায়ে চাপাতি লেগেছে। সদর হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে।”
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. জোবায়ের বলেন, আহতদের বেশিরভাগই একদিনের জন্য মাংস কাটাকুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগের হাতের আঙ্গুলে এবং পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
ঈদের দিন শনিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অন্তত ২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।