Published : 12 Aug 2026, 02:59 PM
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কুলসুম বেগম হত্যা মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালদের বিচারক শরীফুল আলম ভূঁইয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত মো. সুমন হোসেন ওরফে সুমন শেখকে (৩৯) সাজার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক; অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকালে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পূর্ব হাসাড়গাঁওয়ে স্বামীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন কুলসুম বেগম। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করলেও তার সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজের ১৯ দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব হাসাড়গাঁও গ্রামের পশ্চিম চকের একটি পতিত জমি থেকে মানুষের হাড়, মাথার খুলি, স্যান্ডেল, মাথার ক্লিপ ও কাপড়ের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন নিহতের ছেলে কামরুল হাসান অয়ন ও পরিবারের সদস্যরা কঙ্কালটি কুলসুমের বলে সনাক্ত করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামতগুলো সিআইডিতে পাঠানো হয়।
নিহত কুলসুম বেগম ও সুমন শেখের বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার পূর্ব হাসাড়গাঁও গ্রামে; তাদের বাড়ি পাশাপাশি। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কামরুল হাসান অয়ন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায়।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কুলসুমের ছেলে কামরুলকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে সুমন বিভিন্ন সময়ে ছয় লাখ টাকা নেন। পরে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কুলসুমের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
এর জেরে কুলসুমকে পূর্ব হাসাড়গাঁওয়ের একটি অনাবাদি জমিতে ডেকে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করেন সুমন।
হত্যার পর মরদেহ ঘাসের স্তুপের নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এবং হত্যায় ব্যবহৃত দা ও ভ্যানিটি ব্যাগ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে সুমনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।
রায়ের পর মামলার আইনজীবী ও সাবেক পিপি মো. হালিম হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে কামরুল হাসান অয়ন বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম আসামির ফাঁসির আদেশ হবে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে আদালতের রায়কে আমরা সম্মান করি।”