১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্ম পরিচয়ের সংকটে আটকে আছে যুবকের শেষকৃত্য, লাশ হিমঘরে

পরিবারের দুই পক্ষের এমন দাবির কারণে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে ছয় দিন পরও শুভর মৃতদেহের শেষকৃত্য বা দাফন সম্পন্ন হয়নি।

ধর্ম পরিচয়ের সংকটে আটকে আছে যুবকের শেষকৃত্য, লাশ হিমঘরে
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় গুলি করে শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লালকে হত্যা করা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 09:38 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যার শিকার শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লালের মৃতদেহের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। 

নিহতের মায়ের দাবি, ধর্মান্তরিত হয়ে শুভর মৃতদেহ ইসলামের রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। অন্যদিকে জন্মসূত্রে হিন্দু হওয়ায় শুভ মৃতদেহ দাহ করতে চান বাবা।

পরিবারের দুই পক্ষের এমন দাবির কারণে নিহতের ছয় দিন পরও শুভর মৃতদেহের শেষকৃত্য বা দাফন সম্পন্ন হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখার আদেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার আগে প্রায় ৯২ ঘণ্টা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে শুভর লাশ ছিল বলে জানান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম। তিনি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাও।

শনিবার ভোর রাতে ৩০ বছরের শুভকে শহরের চাষাঢ়ায় গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

এসআই মফিজুল বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুন হন শুভ। ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুভর জন্মদাতা বাবা হরি চন্দ্র দাস পেশায় একজন কামার। চাঁদপুর মতলবের বাসিন্দা হরির নারায়ণগঞ্জ শহরে ছোট একটি দোকান রয়েছে। ২০০৩ সালে শুভর মা পার্বতী দাসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় হরির। 

সেই সময় নাবালক চার সন্তানকে নিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে পার্বতী হলফনামা করে আয়েশা বেগম নাম ধারণ করেন। সেইসঙ্গে ৭ বছরের শুভর নাম রায় বিল্লাল। পরে পার্বতী মুসলিম এক পুরুষকে বিয়েও করেন।

অন্যদিকে হরি চন্দ্র দাসও আরেকজন হিন্দু নারীকে বিয়ে করেন।

বড় হয়ে শুভও মুসলিম এক মেয়েকে বিয়ে করেন। জালকুড়ি এলাকায় স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তান নিয়ে ভাড়াবাসায় থাকতেন তিনি। যদিও শুভ তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম আর পরিবর্তন করেননি বলে জানান ডিবির এসআই মফিজুল।

“বিচ্ছেদের পর চার সন্তানকে পার্বতী নিয়ে গেলেও পরে শুভ ও তার আরেক বোনকে নিজের কাছে নিয়ে যান হরি চন্দ্র। কিন্তু সাবালক হবার পর শুভ বাবা কিংবা মা কারও সঙ্গেই থাকতেন না। নিজেই আলাদা থাকতেন এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েন”, বলেন এসআই।

তিনি বলেন, জটিলতা বেঁধেছে, শুভর জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম হরি চন্দ্র দাস আর মায়ের নামের জায়গায় হরি চন্দ্র দাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম রয়েছে। এ ছাড়া শুভ ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি পরে হলফনামাও করেননি। বিয়ের কাগজেও নাম ব্যবহার করেছে শুধুই শুভ। এ কারণে শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

যদিও শুভর ভাই ইব্রাহিমের দাবি, জন্মদাতা মা ও বাবার বিচ্ছেদের পর তারা দুই ভাই একটি মাদ্রসায়ও পড়াশোনা করেছেন। ফলে তাকে দাফন করতে চান তারা।

এসআই মফিজুল বলেন, হরি চন্দ্র দাস মৃদদেহ দাহ করতে আদালতে আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ কোনো নির্দেশনা দেননি। অন্তর্বর্তী সময়ে লাশটি ঢামেকের হিমাগারে রাখার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে মায়ের পক্ষ থেকে হাই কোর্টেও যাওয়া হয়। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হবে।