১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুরে ময়লার ভাগাড় থেকে ভবঘুরে কল্পনার ঠাঁই হল পাকা ভবনে

ময়লার স্তূপের পাশে বস্তা ও পুরানো পলিথিন দিয়ে খুপরি বানিয়ে বসবাস করতেন ওই নারী।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 07:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:40 AM

গাজীপুর শহরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তার পাশে ময়লার ভাগাড়ে বাস করা এক ভবঘুরে নারীকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের পাকা ভবনে নেওয়া হয়েছে। 

আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সি নারী কল্পনা শুধু নিজের নাম বলতে পারেন। তার কোনো স্বজন ও পরিচিত কারো নাম-ঠিকানার কথা স্মরণ করতে পারছেন না। 

ময়লার স্তূপের পাশে বস্তা ও পুরানো পলিথিনের খুপরি বানিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি।  

বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে তিনি তার খুপরি ঘরের পাশেই স্তূপ করে রাখেন। 

প্রতিদিন কে বা কারা এসে তাকে খাবার দিয়ে যান, কিন্তু তাদের কাউকে তিনি চেনেন না। 

গাজীপুর সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ারুল করিম জানান, অতিবর্ষণের সময়ও কল্পনা নামে নারী ওই খুপরিতেই অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজ নেন তিনি। পরে বিষয়টি গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামকে জানান। 

জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার ওয়াহিদা শাবাবকে পাঠালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কল্পনাকে ভবঘুরে হিসেবে শনাক্ত করেন। 

পরে এদিন সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন ও সমাজ সেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে খুপরি ঘর থেকে চিকিৎসার কথা বলে গাজীপুর শহর সমাজসেবা অফিসার আবু বকর মজুমদারের তত্ত্বাবধানে গাড়িতে তুলে জেলার পূবাইলের সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যান। 

আবু বকর মজুমদার জানান, কল্পনা শুধু নিজের নামটি বলতে পারেন, আর কারো কথা তার মনে নেই। তার পায়ে ব্যথা থাকায় তিনি লাঠিতে ভর করে চলেন। গাজীপুর শহরের পুকুর পাড়ে তার নির্মাণ করা পলিথিনের খুপরি ঘরটিকেই আশ্রয়স্থল হিসেবে জানেন কল্পনা। 

পূবাইলে পাকা ভবনে নেওয়ার পরও তিনি ওই ঘরে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান। 

কেননা, সেখানে না ফিরলে পানি ঢুকে তার ঘরের সবকিছু ভিজে যাবে। 

ভবঘুরে কল্পনার স্বজন ও ঠিকানার সন্ধানে উদ্যোগ নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের গাজীপুর কার্যালয়। 

উপযুক্ত প্রমাণ মিললে তাকে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে আবু বকর মজুমদার বলেন, “ততদিন পর্যন্ত এ আশ্রমেই থাকবেন কল্পনা। এখানে থাকা অবস্থায় তার ভরণপোষণ, চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় কাপড়/পোশাক সরবরাহ করা হবে তাকে। এ কেন্দ্রে তার মত প্রায় সাড়ে ৩০০ আশ্রয়হীন ও ভবঘুরে মানুষ বসবাস করছেন।” 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে মনে করতাম, কেউ হয়ত কোনো মালামাল রাখার জন্য অস্থায়ী ওই খুপরিটি তৈরি করে রেখেছে। পরে জানতে পারলাম, সেখানে ওই মহিলা থাকেন। একদিন ওই ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, কিছু মানুষ ঘরের ভেতর উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে। 

“পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, সেখানে ওই মহিলা বসবাস করেন। তিনি মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ এবং রোগে ভুগছেন। তিনি নিজের নাম ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না। তার কোনো আত্মীয়-স্বজন ও পাওয়া যায়নি। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইন অনুযায়ী তাকে একজন ভবঘুরে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে গাজীপুরের পূবাইলে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।”

পরে তার কোনো স্বজনের খবর পেলে কল্পনাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।