Published : 13 Aug 2026, 10:13 PM
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পর মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কামাউরা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মৈত্রীস্তম্ভটি উদ্বোধন ও সবার জন্য খুলে দেওয়া হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ।
প্রায় ৩ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর লড়াই ও আত্মত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “মৈত্রীস্তম্ভটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও এটি পড়ে থাকায় ধুলাবালু পড়ে নষ্ট হচ্ছে। তাই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এটি খুলে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইজারা দেওয়া হবে, নাকি প্রশাসন নিজেই দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনারাও অংশ নেন।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধে প্রায় এক হাজার ৬৬১ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন।
ভারতীয় মিত্রবাহিনীর এই আত্মত্যাগের স্মরণে ২০১৭ সালে নেওয়া ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১৬ কোটি টাকা। পরে কয়েক দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।
মৈত্রীস্তম্ভ কমপ্লেক্সে মূল স্মৃতিস্তম্ভের নিচের চারপাশে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সেনাসদস্যদের নাম লেখা রয়েছে।
দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা ও মিত্রবাহিনীর ভূমিকার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, শরণার্থীদের ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক অভিযানের দৃশ্য রয়েছে। যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ট্যাংক ও কামানের চিত্রও রাখা হয়েছে।
স্মৃতিস্তম্ভের নিচের অংশে অফিস ও জাদুঘর রয়েছে।
এ ছাড়া কমপ্লেক্সের দুটি ফটকের মাঝখানে একটি ফোয়ারা রয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে কয়েকটি দোকান ও একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব দোকান ফুড কোর্ট হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। পেছনে শিশুদের জন্য একটি পার্ক করা হয়েছে।
আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার বলেন, ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে মৈত্রীস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সারোয়ার বলেন, ২০২৪ সালে মৈত্রীস্তম্ভ ও শিশু পার্কটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া গণপূর্ত বিভাগ আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য বাড়াতে রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া ও বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দেসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, মৈত্রীস্তম্ভটি ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেবে।