Published : 07 Apr 2026, 09:32 PM
শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক পরীক্ষা আইন পরিবর্তনের কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
শিক্ষাকে দুর্নীতিমুক্ত করার কথা বলে তিনি বলেন, “শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“এতে পরীক্ষার সংজ্ঞা, খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ডিজিটাল নজরদারির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের জন্য ‘ইবাদতখানা’ বলে মিলন বলেন, “এটি হচ্ছে আমার সদকা জারিয়া পাওয়ার জায়গা। এখান থেকেই আমি চাই সদকা জারিয়া নিয়ে, মৃত্যুর পরে যেন আমি জান্নাতুল ফেরদাউসে যেতে পারি।
“একইভাবে এ সদকায়ে জারিয়া নেওয়ার সুযোগটি সব শিক্ষকদের রয়েছে। আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর, ছাত্র-ছাত্রীদের সুশিক্ষিত বানাবেন। শিক্ষিত ছেলেটি যখন তার পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবে, তার পিতা-মাতার অসুস্থতার দায়িত্ব নেবে, সমাজের সেবা করবে, সেই ভালো কাজের ফলটি নিশ্চয়ই যেই শিক্ষক আগ্রহ নিয়ে পড়াবেন, লেখাবেন, আপনিও পাবেন।”
শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শুধু একটি গাছ লাগালে মানুষ তার ফল খাবে, একটি এতিমখানা বানালে এতিমরা শিক্ষিত হবে, একটি হিফজখানা বানালে হাফেজ হবে, ঠিক তেমনি আপনার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীকে সুশিক্ষিত করবেন এটিও একই কথা।”
শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মিলন বলেন, “পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে। আমার কচুয়ার একটি ছেলে জিপিএ-৫ পাওয়ার কথা কিন্তু সে ফেল করেছে।
“তার টেবুলেশন শিট বারবার দেখা হয়, নম্বর চেঞ্জ হয় না। পরবর্তীতে আমার নিজস্ব ক্ষমতায় খাতা চেক করে দেখলাম, ভেতরের পাতা পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সেই ছেলেটি আজ পিজির চিকিৎসক।”
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ড থেকে সাত হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট থেকেই শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা ও কল্যাণ ফান্ডের টাকা হাতে পাবেন।
“শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে”, বলে যোগ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মেট্রোপলিটন শহরের স্কুলগুলোতে সাময়িকভাবে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র এবং জিপিএ পদ্ধতিতে পরিবর্তনেরও আভাস দেন মন্ত্রী।