বাগেরহাটে নারীকে ‘জমির বিরোধের জেরে দলবেঁধে ধর্ষণ’

তাছাড়া তাকে ‘কামড়ে আহত করা হয়েছে’। নানাবাড়ির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে ভয় দেখানোর জন্য এই নির্যাতন চালানো হয় বলে তার দাবি।

বাগেরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 12:27 AM
Updated : 25 July 2022, 01:09 PM

বাগেরহাটে জমির বিরোধের জেরে এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে; যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই নারী খোঁজখবর নিয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী সাংবাদিকদের বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে তিনি বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হন। এ সময় এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে।

“কয়েকজন ওত পেতে ছিল। একজন আমার হাতে কামড়ে দেয়। আরেকজন গামছা দিয়ে মুখ ও ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে ফেলে। তারা বাড়ির পেছনে সুপারি বাগানে নিয়ে যায়।”

সেখানে কয়েকজন তাকে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতন করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “তারা আমার বিভিন্ন স্থানে কামড়ে আহত করে। আমাকে নানাবাড়ির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য তারা পাঁয়তারা করছিল। ভয় দেখানোর জন্য তারা আমার ওপর নির্যাতন চালায়।

“পরে মুখের বাঁধন হালকা হলে চিৎকার করি। চিৎকার শুনে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মা গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে হ্সাপাতালে আনে।”

স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর এই নারী তার নানাবাড়িতে থাকেন। সঙ্গে রয়েছে তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে।

তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক জিনিয়া ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিজিয়া পারভীন হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর খোঁজখবর নিয়েছেন।

রিজিয়া বলেন, “নারীর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের খবর পেয়ে দেখতে আসি। এই ঘটনার জন্য আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর খোঁজখবর নিয়েছেন। ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। আর মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক