১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনে পানির রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে নিহত ২

ভবনের সাটারিংয়ের জন্য পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে কাঠ আনতে নামেন রানা। পরে সেখানে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তুলতে যান দেলোয়ার।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Apr 2026, 05:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমিয়ে রাখার ট্যাংকে নেমে দুই শ্রমিক মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ভোলাইল গেদ্দারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান। 

নিহতরা হলেন, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভাংরা গ্রামের আলতাফ মৃধার ছেলে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রানা (২২)।

তারা পরিবার নিয়ে ভোলাইল এলাকাতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

দেলোয়ার পেশায় রাজমিস্ত্রী এবং রানা পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তবে ছুটির দিন হওয়াতে দেলোয়ারের সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজে এসেছিলেন রানা। 

রানা কয়েকমাস আগে বিয়ে করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ।

ফতুল্লা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনের দোতলার সাটারিংয়ের কাজ চলছিল। 

এর মধ্যে নীচতলার পানির রিজার্ভ ট্যাংকের ভেতর থেকে কাঠ আনতে নামেন রানা। সেখানে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে তুলতে ট্যাংকে নামেন দেলোয়ার। কিন্তু তিনিও অচেতন পড়েন। 

ফায়ার স্টেশনের এই কর্মকর্তা বলেন, “ট্যাংকের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এসব ট্যাংকের ভেতরে অক্সিজেন কম থাকে এবং পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। ধারণা করছি, অক্সিজেনের কমতির কারণেই তারা অচেতন হয়ে পড়েন।”

ওসি মাহবুব আলম বলেন, কাজ করার সময় ট্যাংকের ভেতর ঢুকে অচেতন হয়ে পড়েন ওই দুই ব্যক্তি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্যাংকের ভেতর থেকে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন বলেন, “হাসপাতালে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তারা অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব।