Published : 26 Mar 2026, 04:28 PM
যশোরে স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিজয়স্তম্ভের মলিন ও রংচটা দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার সকালে মণিহার চত্বরের এই বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দেখা যায়, স্তম্ভের নিচের অংশটুকু একটি গাঢ় সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা। তার উপরে ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে…’ এই লেখাটুকু উঁকি দিচ্ছে।
সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এর নিচে লেখা আছে ১৯৭২ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই অংশটিই প্রশাসন ঢেকে দিয়েছে।
বিজয়স্তম্ভের বেদীতে লাল কার্পেট দেওয়া হয়। পাশে শামিয়ানা টানানো একটি জায়গা থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের ধারাবিবরণি দেওয়া হচ্ছিল।
সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে যশোরে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিনের প্রথম ভাগে বিজয়স্তম্ভে জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শুরু হয়। তারপর একে একে প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানান।
রংচটা বিজয়স্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের অংশ ঢেকে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন-অর-রশিদ।
তিনি বলেন, “প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পৌরসভা বিজয়স্তম্ভকে পরিচ্ছন্ন রাখে। এ বছর দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। মলিন নোংরা বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে হল।
“আর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হল বিজয়স্তম্ভ উদ্বোধনের স্মারকটি। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকায় এ কাজটি করা হয়েছে বলে মনে হল। পুরো ব্যাপারটিই ইচ্ছাকৃত মনে হল। এদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।”

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, “আমি চোখ বন্ধ করে গেছি, চোখ বন্ধ করে এসেছি। তারা (প্রশাসন) এ চেতনার লোক নন।”
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মযহারুল ইসলাম মন্টু বলেন, “এ রকমটা হবে বলে আমরা একটা পক্ষ বিজয়স্তম্ভে যাইনি।”
তিনি বলেন, “ইতিহাস কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। এটা নোংরামি।”
বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোরের সম্পাদক তসলিমুর রহমান বলেন, “চব্বিশের ৫ অগাস্টের পর যে চেতনার উদ্ভব হয়েছিল, তা ছাব্বিশের মার্চে দেখতে হবে এটা আশা করিনি।”
স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী বলেন, বিজয়স্তম্ভের ওই স্মারকে লেখা আছে- ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে বিজয়স্তম্ভ/ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন/ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান/ ১৯৭২ সাল, ২৬ ডিসেম্বর।
বিজয়স্তম্ভের মলিন দশার কারণ জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, “বিজয়স্তম্ভের সংস্কার হবে, সেজন্য কিছু করা হয়নি।”
আর বিজয়স্তম্ভের একটি অংশ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এটাও সংস্কারের অংশ।”