১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হামলার শিকার রাবির সেই দুই শিক্ষার্থী কারাগারে

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে হামলার শিকার হওয়ার পর দুজন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 06:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

রাকসু নেতা ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের হামলার শিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দুই শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস আহমেদ আকাশ (২৮) এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবুল হাসান (২২)।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে হামলার শিকার হওয়ার পর দুজন চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ। 

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ওই দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে। পরে তারা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করলে শাহ মখদুম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

“প্রাথমিকভাবে তদন্তে আমরা সেই মামলায় ওই দুই শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পেয়েছি এবং তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সোমবার সকালে এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার একটি ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। এ সময় রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির দপ্তরে উপস্থিত হন।

পরে তারা দুজন রোববার রাতে প্রক্টরের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে আনাসকে প্রক্টর দপ্তরে ডাকেন। আনাস উপস্থিত হলে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির মাঝেই আনাসকে চড়-থাপ্পড় দেন জিএস ও এজিএস। এ সময় তাকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন রাকসুর এই দুই নেতা। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় প্রক্টর আনাসকে ছেড়ে দেন।

তবে ছাড়া পাওয়ার পর আনাস তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা করেন বলে দাবি করেন জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।

পরে রাকসু এবং ছাত্র শিবির নেতারা তাদের ধাওয়া করলে তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আশ্রয় নেন। এ সময় রাকসুর জিএস আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা করা হয়। এ সময় রিডিং রুমে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে লাইব্রেরির পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনাস ও তার সঙ্গী দুইজনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিতে গেলে জিএস আম্মারের নেতৃত্বে তাদের নামিয়ে ফের মারধর করা হয়।

রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনাস ও আবুল হাসানকে ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঘটনার দিন সোমবার রাতে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। মঙ্গলবার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

(সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়েছে।)

আরও পড়ুন:

রাবিতে ৩ শিক্ষার্থীকে আম্মার ও ছাত্রশিবিরের মারধর: ‘মবের’ বিচার চায় ছাত্র সংগঠনগুলো

রাবিতে ৩ শিক্ষার্থীকে আম্মার ও ছাত্রশিবিরের মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি, ক্ষোভ

হামলার শিকার রাবির সেই দুই শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ মামলায় গ্রেপ্তার

রাবিতে লাইব্রেরিতে ঢুকে ৩ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রাকসু ও শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে

রাবি শিক্ষার্থীকে প্রেমে রাজি করাতে অস্ত্রের ভয় দেখানোর অভিযোগ