০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবি শিক্ষার্থীকে প্রেমে রাজি করাতে অস্ত্রের ভয় দেখানোর অভিযোগ

বৈঠকে একই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আরও পাঁচ ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2026, 03:57 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সংস্কৃত বিভাগের ওই ছাত্রী। তিনি একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। 

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। তখন প্রথম বর্ষের আরও পাঁচ ছাত্রী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী বলেন, ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও চাপ অব্যাহত থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার বিকাল ৩টার দিকে মহসিন তাকে জোর করে পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মহসিন আলম পকেট থেকে চাকু বের করে ভয় দেখান এবং তার কাছে পিস্তল আছে বলেও হুমকি দেন।

ছাত্রীর দাবি, তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে মহসিন তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। তবে পথে রুয়েট এলাকা হয়ে আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি আবার কান্নাকাটি করলে তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর বিভিন্ন নম্বর থেকে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। তাকে বলা হয়, মহসিন আলম আত্মহত্যা করেছেন। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

সোমবার বৈঠকের পর সাংবাদিকরা মহসিন আলমের কাছে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চান। তখন তিনি কোনো উত্তর দেননি। একটু পরে তিনি ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হওয়ার মত করে পড়ে যান। 

মহসিন আলম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে ক্যাম্পাসে অনেকে দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা বলেছেন, তিনি সংগঠনের কোনো পদে নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “ছাত্রদলে তার কোনো পদ নেই। ছাত্রদল কোনো অপরাধীর সংগঠন নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

সোমবার প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাকেও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার ভাষ্য, “তিনি বলেছিলেন, আমরা যদি এসব বাইরে জানাই, তাহলে আমাদের ক্যাম্পাসে থাকতে দেওয়া হবে না।”

একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, মহসিন আলম তাকে মোবাইলে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে একই ধরনের হয়রানি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “দুপুর ১২টায় সবাইকে ডাকা হয়েছিল। সবার বক্তব্য শোনা হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”