১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মানিকগঞ্জে হাট মাতাতে প্রস্তুত ২৫ মণের ‘কালামানিক’

“কালামানিকের মেজাজ ঠাণ্ডা রাখতে বাতাস করা হয় ফ্যান দিয়ে।”

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মাহিদুল ইসলাম মাহি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jun 2025, 07:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:51 PM

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ‘ভাই ভাই ক্যাটল ফার্ম’ খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২৫ মণ ওজনের ষাঁড় ‘কালামানিক'।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পিয়াজচর গ্রামের নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা খামারে কালামানিককে দিনরাত দেখাশোনা করেন খামারের মালিক আক্কাস বেপারী ও রফিকুল বেপারী। এছাড়া দুই জন কর্মীও সার্বক্ষণিক খামারে কাজ করেন।

২৫ মণ ওজনের ‘কালামানিক’কে বিক্রির জন্য ৯ লাখ টাকা দাম হাঁকাচ্ছেন আক্কাস বেপারী। আর এটি হচ্ছে জেলার অন্যতম বড় গরু। কালামানিককে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন এলাকাবাসী।

কালামানিকের মালিক আক্কাস বেপারী বলেন, কালো রঙেয়ের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান (অস্ট্রেলিয়ান) জাতের ৩০ মাস বয়সী এ গুরুর নাম ‘কালামানিক' রেখেছেন আদর করে; শখের বসে। মূলত গায়ের রঙ কালো দেখে এ নাম রেখেছেন। কালামানিকের মেজাজ ঠাণ্ডা রাখতে বাতাস করা হয় ফ্যান দিয়ে।

আক্কাসের ভাই রফিকুল বেপারী বলেন, ‘কালোমানিকের’ পেছনে তাদের খরচ কম হয়নি। সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাবার দিয়ে গরুটাকে এতো বড় করেছেন তারা। দুই ভাই বাদেও দুজন লোক অন্যান্য গরুর পাশাপাশি কালোমানিককে লালন পালন করেছেন। ঘাস চাষের জন্য আলাদা জমি রাখতে হয়েছে।

খাবার তালিকায় ছিল খড়, ভূসি, তাজা ঘাস ও ভুট্টা। কোনো ধরনের ভেজাল (রাসায়নিক খাবার) খাওয়ানো হয়নি। এখন ভাল দাম পেলে তারা খুশি, যোগ করেন রফিকুল।

আক্কাস বলছেন, “কালামানিককে আমি সন্তানের মতো করে লালন পালন করেছি। নিয়ম করে দুই বেলা গোসল করাই। কোন কোন দিন তিন বেলাও গোসল করাই। মাঝে মধ্যে শ্যাম্পু দিয়েও গোসল করাই। খাবার হিসেবে জমির ঘাস ও খড় দেই।”

কালামানিককে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ খামারের সামনে ভিড় করেন বলে জানান তিনি।

আক্কাস বেপারীর ছেলে ভেটেরিনারিয়ান রবিন বেপারী বলেন, “আমাদের খামারের সবচেয়ে বড় গরুটি কালামানিক। এটি হলেস্টান ফ্রিজিয়ান (অস্ট্রেলিয়ান) জাতের গরু। ৩০ মাস ধরে আমার বাবা, চাচা আর দুইজন লোক এটিকে দেখাশোনা করেছে। তাকে কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ মেডিসিন দেওয়া হয়নি।”

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য মাহাবালী বলেন, “আক্কাস বেপারী আর রফিকুল বেপারী দুই ভাইয়ের লালিত পালিত এ ষাঁড় দেখতে আশপাশের লোকজন নিয়মিত আসছে। তারা ভালো দাম পাবে বলে আশা করছি।”

হরিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার বড় ষাঁড়টি ভাল দামে বিক্রি করতে পারলে লাভবান হবে খামারি। আমরা নিয়মিত খামারির বাড়ি যাই ও তাদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করি।”