দেশের ‘অর্ধেক মানুষ জানে না’ তাদের উচ্চ রক্তচাপ

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা প্রজ্ঞা ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন কর্মশালাটি আয়োজন করে।

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2023, 05:25 PM
Updated : 25 Jan 2023, 05:25 PM

দেশের অর্ধেক মানুষ নিজেদের উচ্চ রক্তচাপের বিষয়ে জানে না বলে সিলেটে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় উঠে এসেছে। 

বুধবার নগরীর উপশহরের সঞ্চয়িতা ট্রেনিং সেন্টারে ‘হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ তথ্য দেওয়া হয়। 

কর্মশালায় বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে ২০১৮ এবং গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি ২০১৯-এর তথ্য উদ্ধৃত করা হয়। 

আলোচনায় অংশ নেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ফাউন্ডেশনের হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শামীম জুবায়ের এবং প্রজ্ঞার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার। 

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ কর্মশালাটি আয়োজন করে। 

কর্মশালায় দেশে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এবং দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বলে আলোচনায় উঠে আসে। 

গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে কর্মশালায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে ২০১৮-এর তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন মাত্র ১৪ শতাংশ। বাকি ৩৬ শতাংশ নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। আর ৫০ শতাংশ নিজেদের দেহে উচ্চ রক্তচাপের বিষয়ে কিছুই জানেন না। 

গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মৃত্যু এবং পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ। 

দেশে উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে মাত্র ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছেন বলে কর্মশালায় জানানো হয়। 

উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যায়; যা সব ধরনের সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি। 

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নার থেকে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এক মাসের ওষুধ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে রোগীদের দুই থেকে তিন মাসের ওষুধ একবারে দেওয়ার জন্য প্রেসক্রিপশন করা হলে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব হবে। 

অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ, কম শারীরিক পরিশ্রমে অভ্যস্ততা, তামাক ব্যবহার, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আর্থসামাজিক ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত কারণে দেশে উচ্চ রক্তচাপের বোঝা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কার প্রকাশ করা হয় কর্মশালায়। 

অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ না করে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করে, তামাক পরিহারসহ জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

এতে অসংখ্য জীবন বাঁচানোসহ হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়। 

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। 

সিলেটের ২৬ জন সাংবাদিক কর্মশালায় অংশ নেন। 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস। 

সিলেট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার স্বপ্নীল সৌরভ রায় এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান লস্কর বিশেষ অতিথি ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক