Published : 07 May 2026, 09:08 PM
বহুল আকাঙ্ক্ষিত বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি-নিকারে অনুমোদন পেয়েছে। এ খবর এলাকায় ছড়ালে স্থানীয়রা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকায় সংস্থাটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, নিকারে বগুড়া সিটি করপোরেশন বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে ২০ এপ্রিল বগুড়া পৌরসভা চত্বরে সিটি করপোরেশনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনের ১৭ দিনের মাথায় বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল- বিভাগ ও সিটি করপোরেশন, বিমান বন্দর, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সারিয়াকান্দি-জামালপুর দ্বিতীয় যমুনা সেতু।

তবে সিটি করপোরেশন যেহেতু আগে উদ্ধোধন হল, কাজেই এ নিয়ে সবার আগ্রহ বেশি। নিকারের সভায় এটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দাদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বগুড়া সিটি করপোরেশন পাস হওয়ায় শহরের সাতমাথায় স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, এখন আমরা সিটি করপোরেশন নাগরিক।
চেলোপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবিনাশ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা খুবই খুশি। আগে পৌরসভা ছিল, এখন বলবে বগুড়া সিটির লোক।” তার মত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাসিম আহাম্মক।
সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে শহরের জ্বলেশ্বরীতলা এলাকার দোদুল বলেন, “আমি কিন্তু এখন সিটি করপোরেশনে বাস করি।”
এদিকে নিকারে পাশ হওয়ার পর এখন দৌড়-ঝাঁপ চলছে, কে হবেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক? আগ্রহী প্রার্থীরা এর মধ্যে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে ধন্যা দিচ্ছেন।
প্রশাসক নিয়োগ বিষয়ে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, এখনো সিটি করপোরেশন প্রশাসক নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসক নিয়োগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “আওয়ামী লীগের ১৮ বছর উন্নয়নে বঞ্চিত ছিল বগুড়া। এখন সেই গ্যাপ পুরণ করতে চায় বগুড়ার সন্তান তারেক রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার উন্নয়নে কাজ চলছে।”
বগুড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার বলেন, বগুড়া পৌরসভা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভার ওয়ার্ড ছিল ১২টি। ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় পৌরসভার এলাকা বাড়িয়ে ২১টি ওয়ার্ড করা হয়। পরে এর আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে জনসংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি।
রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের বিএনপির মিডিয়া সেলের সমন্বয়কারী কালাম আজাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বগুড়া সিটি করপোরেশন অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।