২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে নবনির্মিত ‘মডেল’ মসজিদে ফাটল

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নবনির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবন হস্তান্তরের আগেই কয়েকটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শাকিল আহমেদ,

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2022, 11:48 PM

Updated : 25 Oct 2022, 10:15 AM

আটমাস আগে উদ্বোধন হলেও এখনও মসজিদটি কমিটির কাছে হস্তান্তর করেনি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মসজিদে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মসজিদটিতে এখনও নামাজ পড়া শুরু হয়নি।

তবে গণপূর্ত বিভাগ এই ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছে। 

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভবনের ২য় ও ৩য় তলায় বিভিন্ন দেওয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে। স্থানীয়রা ভিড় করে মসজিদের ফাটলগুলো দেখছেন।

এলাকাবাসী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়রা এসব ফাটল দেখতে পান এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে মসজিদ কমিটি।

২৩ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এম কে এম নুরুল হাসান মসজিদটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

প্রকৌশলী এম কে এম নুরুল হাসান বলেন, ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হরিপুর উপজেলায় ৪৩ শতক জমির উপর ‘মডেল’ মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবনের কাজ শুরু হয়। ভবনটি নির্মাণের কাজটি করছে রংপুরের খায়রুল কবির রানা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

২০২১ সালের ১০ জুন ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে নির্মিত একযোগে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবন উদ্বোধন করেন। ওই সময় এই মডেল মসজিদটিও উদ্বোধন করা হয়।

“এখনও কিছু কাজ বাকি থাকায় মসজিদটি কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এক মাসের মধ্যে মসজিদটি কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে,“ বলেন প্রকৌশলী নুরুল হাসান।

মসজিদটি দেখতে আসা মাদ্রাসার ছাত্র নজরুল ইসলাম বলেন, “অনেক টাকা ব্যয় করে বর্তমান সরকার হরিপুর উপজেলা একটি সুন্দর মসজিদ উপহার দিয়েছে। যাতে এলাকাবাসী সুন্দরভাবে নামাজ আদায় করতে পারে এবং ইবাদত করার সুবিধা হয়।  এখন দেখছি মসজিদে ফাটল ধরেছে; আমার মনে হচ্ছে অবশ্যই কাজের মধ্যে গড়মিল হয়েছে। যদি কাজ ভালোই হতো তাহলে ফাটল ধরবে কেন?”

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “উদ্বোধন হওয়ার আট মাসের মধ্যে মডেল মসজিদটিতে ফাটল ধরার কারণে আমরা আতঙ্কে আছি। কারণ যে কোনো মুহূর্তে মসজিদটি ভেঙে পড়তে পারে। আর এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।”

সফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, “আমরা এখনও এই মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারিনি। আর এখন দেখা যাচ্ছে মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল। মসজিদের কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হলো কি না বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর সুষ্ঠভাবে তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলে আশা করি।”

হরিপুরের মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পেশ ইমাম মুফতি মাসুদুর রহমান বলেন, একই সাথে বাংলাদেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে এটি প্রশংসনীয়। ইসলামের জন্য যা কিছু কল্যাণকর ইসলামিক সভ্যতা, ইসলামিক সংস্কৃতি অর্থাৎ ইসলাম শেখার জন্য যা কিছু দরকার সবকিছুই এখানে থাকছে। অথচ এই ভবনটিতে ফাটল ধরেছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খায়রুল কবির রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এম কে এম নুরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তবে এটি নিয়ে জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই ভবনটির দায়িত্বে যেহেতু আমরা আছি অবশ্যই বিষয়টি আমরা দেখব। সুন্দরভাবে মসজিদটির কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হবে।”

হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি অভিযোগটি মৌখিকভাবে শুনেছি যে মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। আমি নিজে গিয়ে একবার পরিদর্শন করব। যেহেতু মসজিদটি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি, সেক্ষেত্রে গণপূর্ত বিভাগ তাদের ছোটখাটো ত্রুটিগুলো মেরামত করে আমাদেরকে ভবনটি হস্তান্তর করবে। কোনো অপ্রীতিকর অবস্থায় যেন আমাদেরকে পরতে না হয় সেটি গণপূর্ত বিভাগ দেখবেন বলে শুনেছি।”