বাবা চেয়েছিলেন ‘সারপ্রাইজ দিতে, ভুল বুঝে আত্মহত্যা করলেন’ মেয়ে

‘পছন্দের বাইরে বিয়ে হচ্ছে মনে করে আত্মহত্যা করেছেন’ বরগুনার এক কলেজছাত্রী; যাকে তার ‘পছন্দের ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন’ বাবা-মা।

বরগুনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2022, 12:39 AM
Updated : 12 Feb 2022, 03:58 PM

মেয়েকে তারা ‘সারপ্রাইজ’ দেবেন বলে আগে থেকে সেই ছেলের পরিচয় জানাননি; আর তাতেই এমন ট্রাজেডি।

শনিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে রুমা খাতুন (১৮) নামে এই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার তালতলী থানার ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু।

রুমা তালতলী উপজেলার শিকারীপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন মোল্লার মেয়ে। তালতলী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

আলাউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রতিদিনের মত কলেজের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে সকাল ১০টায় বাড়ি ফেরেন রুমা। মেয়েকে নিয়ে সকালের খাওয়াদাওয়া শেষে বাবা-মা ফসলের মাঠে যান। তারা ফিরে এসে দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে মেয়েকে ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে রুমাকে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

আলাউদ্দিন এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলতে পারেননি।

তবে তিনি বলেন, তিনি মেয়ের কোনো চাওয়া অপূর্ণ রাখেননি।

“আমার খুব আদরের মেয়ে ছিল। আমরা ওর পছন্দের ছেলের সঙ্গেই বিয়ে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু তাকে তা বলি নাই। তাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। সে হয়ত মনে করেছিল অন্য কোথাও আমরা তার বিয়ে ঠিক করেছিলাম। এ কারণে আত্মহত্যা করতে পারে।”

রুমার সঙ্গে এলাকার এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। সেই ছেলের বাড়ি থেকে শনিবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসার কথা ছিল বলেও তারা জানিয়েছেন।

রুমার মৃতদেহের কাছে দুই পৃষ্ঠার একটি ’সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে।

ওসি তপু ’সুইসাইড নোটের’ বরাতে বলেন, “ওই ছেলের সঙ্গে তার পবিত্র প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলেও রুমা সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন।”

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি তপু।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক