ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে
ঠাকুরগাঁওয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন সাংবাদিককে নৌকার প্রার্থীর লোকজন মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সদর উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে এই হামলার অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম।
আহতরা হলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানভির হাসান তানু, অনলাইন পত্রিকা রাইজিং বিডির জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মঈনুদ্দিন তালুকদার হিমেল ও অনলাইন পত্রিকা নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য সোহেল রানা।
তাদের ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রকিবুল আলম চয়ন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আহত তিন সাংবাদিকের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে।
চিকিৎসাধীন তানভির বলেন, “নির্বাচন ঘিরে শনিবার দুপুরে নৌকার প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ান। খবর পেয়ে সহকর্মী মঈনুদ্দিন তালুকদার হিমেল, সোহেল রানা ও জাহিদ হাসান মিলুকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। এরপর ঘটনাস্থলে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। এতে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন।
“প্রথমে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা আমাকে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন। আমাকে বাঁচাতে সহকর্মী মঈনুদ্দিন তালুকদার হিমেল ও সোহেল রানা এগিয়ে আসলে তাদেরও বেধড়ক পেটান তারা এবং আমাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন তারা ছিনিয়ে নেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।”
তবে নৌকার প্রার্থী নোবেল কুমার সিংহ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তার সমর্থকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেনি।
“স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানের সমর্থকরাই সাংবাদিকদের মারপিট করেছেন। এখন সেই দায় আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা আমার কর্মীদের ওপরও হামলা করেছেন। আমার চারজন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমানও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার দাবি, তার সমর্থকরা সাংবাদিক বা নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা করেননি।
“বরং নৌকার লোকজন আমাদের কর্মীদের মারপিট করেছেন এবং সাংবাদিকদে বেধড়ক পিটিয়েছেন। এখন উল্টো আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।”
তবে এ ঘটনায় এখনও কেউ পুলিশে অভিযোগ দেয়নি।
ঠাকুরগাঁও থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহত তিন সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব, ঠাকুরগাঁও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সাংবাদিক মহল। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।
