২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাষাবাদ হচ্ছে শুষ্ক ভুবনেশ্বরে

নাব্যতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে গেছে ভুবনেশ্বর নদী। যে নদী দিয়ে এক সময়ে লঞ্চ, বড় বড় পাল তোলা নৌকা চলত তার বুকে চলছে এখন চাষাবাদ।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

মফিজুর রহমান শিপন,

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Apr 2018, 02:02 PM

Updated : 11 Oct 2022, 12:16 PM

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদী শুকিয়ে চর পড়ে গেছে। তাতে ফলছে ধান-পাটসহ নানা ধরনের ফসল।

অথচ এ নদীতে চলত নৌকা, লঞ্চ। এ নদীর মাছ আমিষের চাহিদা পূরণ করত তীরবর্তী মানুষের।

দীর্ঘ দিন ড্রেজিং না করায় শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ভুবনেশ্বর নদী পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে যে নদীতে সাড়ে তিন হাজার কিউসেফ পানি থাকার কথা সেখানে রয়েছে মাত্র ৩০০ কিউসেফ পানি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভুবনেশ্বর নদীর এক তৃতীয় অংশ পানি শূন্য হয়ে পড়ায় সেখানে ধান, গম, পাট চাষ করছেন কৃষকরা। কেউ কেউ পাড় দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করছে।

উপজেলার বিএস ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক নজুমদ্দিন বলেন, পদ্মা নদী থেকে বয়ে আশা ভুবনেশ্বর নদীর পলি অপসারণ ও পুনর্খনন না করায় ভরাট হয়ে চাষি জমিতে পরিণত হয়েছে।

“সরকারের নীরবতা আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতার কারণেই ভুবনেশ্বর নদীর অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে।”

নদীপাড়ের বাসিন্দা আ. রহমান বলেন, দুই যুগ আগেও নদীটি বহমান ছিল। সে সময় নদীতে চলাচল করত পাল তোলা নৌকা, মালবাহী কার্গো। কিন্ত বছরের পর বছর পদ্মা নদীর ভাঙনের মাটি স্রোতে নেমে আশায় ভুবনেশ্বরের তলদেশ ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে।

এলাকার প্রবীণ রহিম মিয়া বলেন, ২০ বছর আগেও ভুবনেশ্বরে মাছ ধরতেন। নদীতে পাওয়া যেতো ইলিশ, বোয়াল, আইড়, কাতলা, চিতল, পাবদাসহ নানা জাতের মাছ।

“মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতে কষ্ট হয়নি জেলেদের । তবে এখন অবস্থা ভিন্ন, নদীতে পানি নাই, মাছও নাই।জেলেদের অনেকে জাল ছেড়ে ভ্যান চালাতে শুরু করেছে।”

চরভদ্রাসনের উপজেলা চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমিন বলেন, নদীর ‍উপর এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক জীবন-মান অনেকাংশেই নির্ভর করে। নদীর খনন করে সরকার তার প্রাণ ফিরিয়ে দেবে এটাই দাবি চরভদ্রাসনবাসীর।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, জেলার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষির পাশাপাশি জীববৈচিত্রের উপর।

“ভুবনেশ্বরকে বাঁচাতে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। সরকার যদি এই নদীটি খননের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আবার প্রাণচঞ্চল হবে নদী ও নদী পাড়ের মানুষের জীবন-মানের।”