Published : 13 Nov 2016, 04:40 PM
কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, শনিবার এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ‘ডাকাত’ দলের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এসপি আবিদ হোসেন একথা জানান।নিহত ডালিমের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
এসপি আবিদ বলেন, শনিবার বিকালে হোমনার শ্রীমদ্দি সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এএসআই কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“এরপর ফেরার পথে পুলিশের ইঞ্জিনচালিত ট্রলারকে পেছন থেকে ডাকাতের সহযোগীরা ধাওয়া করে।
“উপজেলার চরেরগাঁও এলাকার তিতাস ও মেঘনা নদীর মোহনায় পৌঁছলে আটকদের ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি, ইট-পাটকেল ও বোমা নিক্ষেপ করে ডাকাতরা।”
এতে পুলিশ সদস্য মো. জামাল মোল্লা (৩৩) আহত হন বলে জানান এসপি আবিদ।“এ সময় পুলিশ ডাকাতদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ জানতে পারে আহত ডাকাতদের মধ্যে ডালিম নামে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।”
আহত পুলিশ সদস্যকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েচে বলে জানান এসপি।
আটকরা হলেন মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে মো. রবিউল (২৮) ও একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল (২৮)।
এসপি বলেন, তাদরে কাছ থেকে তিনটি এলজি, একটি চাইনিজ পিস্তল, তিন রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি কার্তুজ, সাতটি হাত বোমা, তিনটি রাম দা, একটি বড় ছুরি, তিনটি স্পিড বোট, চারটি হেলমেট ও ২০টি লাইফ জ্যাকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ারুল হক জানান, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নৌ-ডাকাতের একটি দল মেঘনা নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে হোমনা থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, কার্তুজ, বোমা ও দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“ডাকাতদের ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশও পাল্টা ১৯ রাউন্ড গুলি চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য জামাল মোল্লা আহত হন।”
পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত আছে। এ ব্যাপারে হোমনা থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।