সৌদি আরবে নিহত ৪ বাংলাদেশির পরিবারে মাতম
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া চার বাংলাদেশির সবাই নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
রিয়াদের পুরাতন শহর হারাজ বিন হাছেম মানফুহা এলাকায় বুধবার রাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
এরা হলেন- খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে সামিউল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম হোসেন (৩২), জনার্দনবাটির গফুর মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন মোল্লা (৪২), আজের আলীর ছেলে অসীম আলী (২৫) ও ভাটোপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (৩২)।
তারা সবাই নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় স্ত্রী-সন্তান ও মায়েদের কথা।
রিয়াদের একই এলাকায় একটি দোকানে চাকরি করেন খাজুরা গ্রামের মজি উদ্দিন।
মজি উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মৃত চার তরুণ যৌথভাবে সেখানকার একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে সোফা তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। সারাদিন কাজ শেষে ওই ঘরের একটি স্থানে তারা রাতে ঘুমাতেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর তিনি ঘটনাস্থলে থাকা অপর বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ওই কারখানার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানায় ফোম ও তুলা থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বের হতে না পারায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
জনার্দনবাটি গ্রামে অসীম আলীর বাড়িতে আহাজারি করছিলেন তার স্ত্রী রিতা বেগম। কোলে ছিল তিন মাস বয়সী মেয়ে আয়েশা খাতুন।
রিতা বেগম বলেন, “মেয়েটার মুখটা দেখার ভাগ্য আর তার হলো না। হতভাগ্য আমার মেয়েটি। বাবাকে এক নজর দেখাও কপালে জুটল না।”
তাদের রিপন নামের নয় বছরের একটি ছেলেও রয়েছে।
ভাটোপাড়া গ্রামে গিয়ে আমিরুল ইসলামের মা আমেনা বেগমের সঙ্গে কথা হয়।
আমেনা বলেন, আমিরুল তাদের একমাত্র সন্তান। সংসারের অভাব অনটন দূর করতে জমি-জায়গা বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠায়েছিলেন মাত্র সাত মাস আগে।
“আমিরুল মারা যাওয়াতে আমার পরিবারে উপার্জন করার আর কেউ থাকল না,” বলেন আমেনা।
জনার্দনবাটি গ্রামের জামাল হোসেন মোল্লার স্বজনরা জানান, তিনি আট বছর আগে সৌদি আরব গেছেন। এরমধ্যে একবারও দেশে আসেননি। আগামী ১৭ অগাস্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
জামালের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, “সন্তানদের নিয়ে আট বছর ধরে অপেক্ষা করছিনু স্বামীর মুখটা দেখার জন্য, কিন্তু সব স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেল। ওকে আর কোনো দিন দেখতে পাব না।”
শ্রীপুরপাড়ার সামিউল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে আহাজারি করছেন তার মা ছামেলা বেগম।
তিনি বলেন, “তিন বছর বয়সে ছেলিডা আমার এতিম হয়ছিল। আমি কষ্ট করে বড় করিছি। ধার দেনা করি বিদেশ পাঠাইছি। একটু সুখের জন্য, কিন্তু সব সুখ আল্লায় কাড়ি নিছে।”
