১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাভাইয়ের ‘আরেক সহযোগী’ গ্রেপ্তার নওগাঁয়

সাঁড়াশি অভিযানে নওগাঁয় তিন ‘জেএমবি’ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনকে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী বলছে পুলিশ।

নওগাঁ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jun 2016, 03:59 PM

Updated : 25 Jul 2022, 09:26 PM

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত রানীনগর ও পত্নীতলা উপজেলায় এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন রানীনগর উপজেলার বড়গাছা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে খায়রুল আলম মন্টু (৫৫), পত্নীতলার কাটাবাড়ি গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৭) ও চকদুর্গা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন (৩৫)।

এদের মধ্যে খায়রুল আলম মন্টু ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার‌্যকর হওয়া জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

এর আগে সোমবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বিন্নাকুড়ি গ্রাম থেকে গরীবুল্লাহ আকন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়। গরীবুল্লাহ বিন্নাকুড়ি গ্রামের আজিতউল্লাহ আকন্দের ছেলে।

ওইদিন মুক্তাগাছা থানার ওসি আবু মো. ফজলুল করিম বলেন, “গরীবুল্লাহর বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় হত্যা, ডাকাতি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে চারটি মামলা রয়েছে। সে বাংলা ভাইয়ের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল।”

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোরশেদ আলম বলেন, রানীনগর থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী খায়রুল আলম মন্টুকে বুধবার ভোররাতে গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওই সময় তার বাড়ি থেকে দুইটি হাতবোমা ও একটি ছোরা উদ্ধার করে বলেও জানান খোরশেদ আলম।

“২০০৪ সালে বাংলা ভাইয়ের রোমহর্ষক নির্যাতন চলার সময় রানীনগর ক্যাম্পের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন খায়রুল আলম মন্টু। তার বিরুদ্ধে রানীনগর থানায় হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগসহ ৬/৭টি মামলা রয়েছে।”   

খায়রুল আলম মন্টু, জালাল উদ্দিন ও মোশারফ হোসেন পুলিশের তালিকাভুক্ত জেএমবি সদস্য বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ।

সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ও তার সহযোগীরা ২০০৪ সালের ২০ মে নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় ইদ্রিস আলী ওরফে খেঁজুর আলী ও আব্দুল কাইয়ুম বাদশাকে হত্যা করে। পরে বাদশার মরদেহ উল্টো করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়; খেঁজুর আলীকে টুকরো টুকরো করে লাশ পুঁতে ফেলা হয় মাটিতে।

গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার সেই ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে দেশজুড়ে রাতারাতি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘বাংলা ভাই’ নামটি।

২০০৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকার জেএমবি ও জেএমজেবির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ওই বছর ১৭ অগাস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা ফাটিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় সংগঠনটি।  

ঝালকাঠি জেলার সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাদের হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইসহ ছয় জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

এরপর টানা অভিযানে যে জেএমবির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা দিয়ে এলেও গত তিন বছরে অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার জন্য জেএমবিকেই দায়ী করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।