শ্বাসনালি কাটা গৃহবধূ নদীতে, আটক ২
মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদীতে কচুরিপানায় ভেসে আসা শ্বাসনালি কাটা এক গৃহবধূকে উদ্ধারসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রেবা বেগমকে তার শাশুড়ি ও ননদের স্বামী গলায় ছুরি চালিয়ে মৃত ভেবে নদীতে ফেলে দেয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।
কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্দু বালা জানান, দক্ষিণ বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের পরিপত্তর গ্রামে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত রেবাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রেবার মা লালমতি বেগম বলেন, বুধবার আছরের আগে রেবাকে তার শাশুড়ি জুলেখা বেগম পরিপত্তর গ্রামে জামাতা সরোয়ারের বাড়িতে নিয়ে যান।
“সেখানে জামাতা-শাশুড়ি মিলে রেবার গলা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেয়।”
নদীতে কচুরিপানা থাকায় রেবা বেঁচে থাকেন।
ওসি কৃপা সিন্দু বলেন, স্থানীয়দের কাছে লাশের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাঁশগাড়ি লঞ্চঘাটের কাছে রেবাকে দেখতে পায়।
“তাকে হাত-পা নাড়তে দেখে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় ও গ্রামের ঠিকানা বলেন।”
সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রেবাকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদ হোসাইন বলেন, রেবার শ্বাসনালির অর্ধেকটা কাটা। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ রেবার শাশুড়ি ও ননদের স্বামীকে আটক করেছে।
খাসের হাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রশিদ বলেন, রেবার শাশুড়ি উড়ারচর গ্রামের মাজেদ হাওলাদারের স্ত্রী জুলেখা বেগম ও জুলেখার জামাতা পরিপত্তর গ্রামের সরোয়ার হোসেন ব্যাপারিকে আটক করা হয়েছে।
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছেন শাশুড়ি জুলেখা।”
পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।
রেবার স্বামী আক্তার হাওলাদার মুন্সীগঞ্জের একটি মসজিদের ইমাম। তাদের সাত বছরের এক মেয়ে ও পাঁচ বছরের ছেলে রয়েছে।
