২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

তনু হত্যা: পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ময়নাতদন্তকারীরা

সোহাগী জাহান তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে ঘটনাস্থলে সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন চিকিৎসকরা।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jun 2016, 10:49 PM

Updated : 20 Aug 2022, 12:54 PM

গত ২০ মার্চ খুনের পর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের প্রমাণ না পাওয়ার কথা চিকিৎসকরা জানালেও ডিএনএ পরীক্ষার পর সিআইডি দাবি করে, খুন হওয়ার আগে ধর্ষিত হয়েছিলেন এই কলেজছাত্রী।

আলোচিত এই খুনের প্রথম ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আদালতের নির্দেশে লাশের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা।

তারপর দুই মাস গড়ালেও এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিতে পারেননি চিকিৎসকরা। এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আইনি নোটিসও পাঠিয়েছেন নিহতের বাবা মামলার বাদী ইয়ার হোসেন।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের সদস্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বলছেন, সিআইডির ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন পেলেই তারা প্রতিবেদন দিতে পারবেন।

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তনুর দাঁত ও লালা পরীক্ষার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কাছে। তখন সিআইডি বলে যে এগুলোর আলাদা কোনো প্রতিবেদন নেই।

তার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার কুমিল্লার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জয়নাব বেগম পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চিকিৎসকদের সরবরাহের নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেলা পিপি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডিএনএ রিপোর্টসমূহ ময়নাতদন্তকারী বোর্ডের নিকট হস্তান্তর আদেশ দিয়েছেন আদালত।”

নাম প্রকাশ না করে সিআইডির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিআইডি সদরদপ্তর থেকে দু-একদিনের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ময়নাতদন্তকারী বোর্ডকে দেওয়া হবে।

গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনুর লাশ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করে তার পরীক্ষা চালায় সিআইডি।

সেনানিবাস বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে তনু নিজেদের কোয়ার্টার থেকে অন্য কোয়ার্টারে ছাত্র পড়াতে গিয়ে খুন হন। 

লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ ধর্ষণের সন্দেহের কথা জানালেও পরদিন ২১ মার্চ ময়নাতদন্তের পর ধর্ষণের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।

এনিয়ে সারাদেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে আদালতের নির্দেশে ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর লাশ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়।

পুরনো খবর:

তনু হত্যা: ডিএনএ প্রতিবেদনে ‘আটকে’ ময়নাতদন্ত