পারিবারিক কলহে চাচাত ভাইকে হত্যার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে পারিবারিক কলহের জেরে চাচাত ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ পাঁচ জন আহত হয়েছেন।
আদিতমারী থানার এসআই আব্দুল হাই জানান, সোমবার রাতে উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের টেপা পলাশী টুলুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে আলীমুল হকের (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলীমুল ওই এলাকার আব্দুর রশীদের ছেলে।
আহতরা হলেন আলীমুলের বাবা আব্দুর রশীদ, ভাই আনারুল ইসলাম (৩০), বোন আরফিনা বেগম (১৯), চাচাত ভাই মাসুম বিল্লাহ (২৩) ও চাচি ফজিলা খাতুন (৫০)।
আব্দুর রশীদ ও আনারুলকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এবং আরফিনাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।মাসুম বিল্লাহ ও তার মা ফজিলা খাতুনকে গ্রেপ্তারের পর আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসআই আব্দুল হাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চার মাস আগে আলীমুলের বোন আরফিনা বেগম ও টুলুর বাজার এলাকার বাসিন্দা চাচা আব্দুল মজিদের ছেলে মাসুদ রানা নিজেরা পছন্দ করে বিয়ে করেন। কিন্তু এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মাসুদের পরিবারের লোকজন আরফিনাকে মারধর করত। সম্প্রতি আরফিনার শাশুড়ি ও দেবর মাসুম বিল্লাহ জোর করে আরফিনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এসআই বলেন, এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হলে আরফিনার শ্বশুর ছেলের বউকে ঘরে আবার ফিরিয়ে নেন। এতে রেগে গিয়ে মাসুম রাতে বাড়ি ফিরে আরফিনার বাবা আব্দুর রশীদকে তাদের বাড়ি ডেকে নিয়ে গালাগাল করেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে মাসুম ছুরি দিয়ে আব্দুর রশীদকে কুপিয়ে জখম করেন।
“এ সময় আব্দুর রশীদের চিৎকারে তার ছেলে আলীমুল এগিয়ে এলে বিল্লাল তাকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
এ সময় আলীমুলের ভাই আনারুল ইসলাম ও বোন আরফিনা এগিয়ে গেলে মাসুম তাদেরও ছুরিকাঘাতে জখম করেন বলে জানান এসআই আব্দুল হাই।
বুধবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ আলীমুলের লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং মাসুম ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় মাসুম, তার মা ও বাবাকে আসামি করা হয়েছে।
আরফিনা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার চোখের সামনেই দেবর মাসুম বিল্লাহ ও আমার শাশুড়ি এ ঘটনা ঘটিয়েছে।”
ঘটনাস্থলে পরিদর্শন শেষে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম বলেন, তদন্ত চলছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
