শিক্ষার্থীকে মারধর, ফর্সা হওয়ায় ‘দাগ বেশি’
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পরীক্ষার সময় ‘অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলায়’ এক ছাত্রকে ‘লাথি মেরে ও পিটিয়ে’ আহত করার ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে সমঝোতা করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনায় ডাকা বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীর গায়ের রং সাদা হওয়ায় দাগ একটু বেশি দেখা যাচ্ছে, কালো হলে দেখা যেত না।”
একই সাথে রোববার দুপুরে ওই বৈঠকে তিনি নিজের ভারসাম্যহীনতার কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দেন বলে জানান ইউএনও আবু ইউছুফ।
শনিবার পরীক্ষা চলাকালীন রামগঞ্জ এমইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীকে দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন বেদম মারধর করে আহত করেন।
ছেলেটির সহপাঠীদের বরাত দিয়ে তার চাচা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শনিবার সকালে স্কুলের পরীক্ষা চলার সময় তার ভাতিজাকে পেছনের বেঞ্চের এক শিক্ষর্থীর সঙ্গে কথা বলতে দেখে ক্ষেপে যান পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মনির হোসেন মোল্লা।
“তিনি আমার ভাতিজাকে কান ধরে বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে আনেন এবং পরীক্ষার হলে সব শিক্ষার্থীর সামনে স্কেল দিয়ে পেটান।”
চাচার দাবি, স্কেলের পিটুনিতে ছেলেটির পিঠ ‘রক্তাক্ত হয়ে গেলে’ সে আর পরীক্ষায় বসবে না বলে জানায়। এতে সেই শিক্ষক আরও ক্ষেপে ওঠেন এবং ওই ছাত্রের ‘বুকে লাথি মেরে ও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে’ জোর করে তাকে স্কুল কক্ষে বসিয়ে রাখেন।
খবর পেয়ে পরে অভিভাবকরা ছেলেটিকে স্কুল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানান তার চাচা।
তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক একটা ছোট বাচ্চাকে পিটিয়ে আহত করেছে! এ কোনো মানুষের কাজ নয়।”
এ ঘটনায় শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজকে রোববার দুপুরে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান।
