রাস্তার গাছ বিক্রিতে কালকিনির মেয়রের ‘দুর্নীতি’
মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকায় রাস্তার দুই পাশের চার শতাধিক মেহগনি গাছ ‘নামমাত্র মূল্যে’ ভাইয়ের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মেয়রের বিরুদ্ধে।
গাছগুলো বিক্রির দরপত্রে অংশগ্রহণকারী এক ঠিকাদারের অভিযোগ, দরপত্র না কিনেও গাছগুলো কাটার কাজ পান মেয়রের ভাই।
তবে ভাইয়ের কাছে গাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র এনায়েত হোসেন। যথাযথ দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয় বলে তার দাবি।
সরেজমিন সোমবার গিয়ে জানা যায়, কাশিমপুর বাজার থেকে উপজেলা পরিষদের পিছনের ফুট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশের ৪০২টি গাছের অধিকাংশ গাছই কেটে ফেলা হয়েছে।
বাকি গাছ কাটার কাজটি তদারকি করছেন উপজেলা বিএনপি নেতা মো. সালাম ফরাজী।
১৯৯৭ সালে ওই পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রশাসক আবুল কালাম স্থানীয়দের সহায়তায় রাস্তার দুই পাশে গাছগুলো লাগান।
রাস্তার পাশের জমির মালিক হারুন, কাঞ্চন, ইউনুস সরদার, দলিলউদ্দিন বেপারীসহ অর্ধশত ব্যক্তি বলেন, গাছ লাগানোর সময় বলা হয়েছিল- গাছ বিক্রির টাকা থেকে জমির মালিকগণ শতকরা ৬৫ ভাগ, পৌরসভা ৩০ ভাগ ও দেখাশোনা করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা পাঁচ ভাগ পাবে।
তাদের অভিযোগ- পৌরসভার মেয়র এনায়েত হোসেন রাস্তা বড় ও নতুন করে সংস্কারের নামে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৪০২টি মেহগনি গাছ মাত্র ২ লাখ ৬১ হাজার টাকায় ‘লোক দেখানো টেন্ডারের’ মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছেন তার ভাই মোশারেফ হোসনের কাছে।
জমির মালিকদের ওই শর্তের কথা স্বীকার করেছেন পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যখন মাটি কেটে রাস্তাটি নতুন নির্মাণ করি তখনই জমির মালিক, পৌরসভা ও একটি এনজিওকে সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগাই। গাছগুলো বিক্রি করে তাদের টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
“তাদের কাউকে না জানিয়ে মেয়র কীভাবে টেন্ডার (দরপত্র) করালেন?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরপত্রে অংশগ্রহণকারী একজন ঠিকাদার বলেন, “গত ২৭ মার্চ আমরা তিন জন টেন্ডারে অংশগ্রহণ করি। তাতে মেয়র এনায়েত হোসেনের ভাই সিডিউল ক্রয় করেননি। অথচ তাকে কাজটি দেওয়া হয়েছে।”
গাছগুলো বৈধ প্রক্রিয়ায় দরপত্রের মাধ্যমে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে দাবি করে মেয়র এনায়েত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের অভিযোগ যে মোশারেফকে নিয়ে, তিনি আমার ভাই মোশারেফ না, তিনি রাজদী এলাকার মোশারেফ হোসেন।”
গাছ লাগানোর সময় জমির মালিকদের দেওয়া শর্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি মেয়র এনায়েত।
রাস্তাটি ৮ ফুট থেকে ১৬ ফুট চওড়া করা হবে। গাছ না কাটলে রাস্তা চওড়া করা সম্ভব হবে না। তাই গাছগুলো কাটা হচ্ছে, বলেন মেয়র।
কালকিনির রাজদী এলাকার মোশারেফ হোসেনের কাছে গাছ ক্রয়ের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তো সিডিউল ক্রয় করিনি। তাহলে গাছ ক্রয় করলাম কীভাবে?”
তবে কাজটি তদারকি করা বিএনপি নেতা সালাম ফরাজী বলেন, “মেয়রের ভাই মোশারেফ আমাকে গাছ কাটার কাজ দেখভাল করতে বলেছেন, তাই আমি দেখাশোনা করছি।”
