২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কালকিনির এসি ল্যান্ডকে ‘মারধর’, মামলা দায়ের

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) মারধরের অভিযোগে দুই যুবলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।  

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Mar 2016, 02:15 PM

Updated : 20 Aug 2022, 12:10 PM

সোমবার কালকিনি থানায় সহকারী কমিশনার মো. সাঈদুজ্জামান খান নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার দুই আসামি হলেন উপজেলা যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম ও যুবলীগকর্মী বাচ্চু হাওলাদার।

মামলার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তৌফিকুজ্জামান শাহীনের নাম বাদী উল্লেখ করলেও পুরিশ বাদ দিয়েছে বলে অভিযোগ বাদীর।

এসি ল্যান্ড সাঈদুজ্জামান খান বিডিনিউজ টোযৈন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করেই থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে।”

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের মাধ্যমে এলাকায় ওএমএসের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের বিষয়ে একটি সরকারি চিঠি পান সাঈদুজ্জামান।

তিনি চিঠিটি নথিতে দিয়ে সভা আহ্বানের মাধ্যমে ডিলারের তালিকাসহ উপস্থাপনের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে একটি নোট দেন।

কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সভা না ডেকে ওই দিনই ফাইল অনুমোদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করেন সাঈদুজ্জামান।

এরপর সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান মোবাইলে ফোনে এসি ল্যান্ডকে ফাইলে স্বাক্ষর করতে বলেন। তাতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি।

অভিযোগ আরও উল্লেখ করা হয়, এর প্রায় ১৫ মিনিট পর তৌফিকুজ্জামান এসি ল্যান্ডের কার্যালয়ে যান। ফাইলে স্বাক্ষর না দিলে তাকে (এসি ল্যান্ড) বিপদে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

সাঈদুজ্জামান বলেন, “এরপরও স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান রেগে  আমার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর শাহ আলম ও বাচ্চু আমার রুমে ঢুকে আমাকে মারধর করেন।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, “এসি ল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেটা এখন মিটমাট হওয়ার পথে।”

মামলায় একজনের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ‍‍‍‍সাঈদুজ্জামান বাদী হয়ে শাহ আলম সরদার ও বাচ্চু হাওলাদারকে আসামি করে ‌‌‌‍‌‌‌কিল-ঘুষি মারার অভিযোগে মামলা করেছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান এই ঘটনায় সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে লাঞ্ছিতের কেনো অভিযোগ আনা হয়নি।

মামলার পর থেকে শাহ আলম ও বাচ্চু পলাতক, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।