২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এমপি রানার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের পর ঘাটাইলে উত্তেজনা, ভাংচুর

টাঙ্গাইলে ফারুক আহমেদ হত্যামামলায় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান রানা ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ঘাটাইলে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Feb 2016, 09:07 PM

Updated : 12 Apr 2022, 01:21 AM

বুধবার রাতে পুলিশ অভিযোগপত্র দেওয়ার পর রানার পক্ষের এবং বিপক্ষের কর্মীরা পাল্টাপাল্টি ভাংচুর চালিয়েছে।

এই কারণে উপজেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে ঘাটাইল থানার ওসি কামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আহ্বানের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ঘাটাইলের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রানাকে দলের জেলা কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যামামলায় আসামি করেছে পুলিশ।

রানার সঙ্গে তার ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এবং ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকনের নামও অভিযোগপত্রে রয়েছে।

টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর রাত ১১টার দিকে রানা সমর্থকরা ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু ও জিবিজি কলেজের সাবেক ভিপি শহিদুজ্জামান খানের বিলবোর্ড ভাংচুর করে।

তারা এরপর ছাত্রলীগ নেতা আবিদ ও তমালের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে বলে ওসি কামাল জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রানা সমর্থকদের ভাংচুরের পর লেবু সমর্থকরা ৩ নম্বর জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। রানা সমর্থক শহিদুলের রান্না ঘর ও বাসার জানালা ভাংচুর হয়।

বৃহস্পতিবার সকালেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে ওসি জানান।

এদিকে ভাংচুরের পর র‌্যাব উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করে বলে লেবু সমর্থকরা জানিয়েছেন।

তারা হলেন- জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ রুবেল (৩০), তার ছোট ভাই মো. সোহেল (১৮), মিতুল (২০) ও মনজু (২১)। এ

তাদের গ্রেপ্তারের  প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে লেবু সমর্থকরা উপজেলা সদরে মিছিল-সমাবেশ করে। অন্যদিকে রানা সমর্থকরা শহরে কলেজ মোড়ে জনসভা ডেকে মাইকিং শুরু করে।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছমা আরা বেগম বিকাল ৪টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

আছমা আরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সকল প্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”