তীব্র শীতে নানা রোগে আক্রান্ত শিশুরা
তীব্র শীতে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কয়েকশ শিশু লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে এসেছে।
প্রতিদিন অন্তত একশ শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এছাড়া রায়পুর, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসা নিচ্ছে অনেক শিশু।
তবে এখনও সদর হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে সিভিল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁঞা জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের শিশুরোগ পরামর্শক ডা. মাঈন উদ্দিন জানান, জেলা সদর হাসপাতালে রয়েছে ১০০ শয্যা। এ হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত কারণে প্রতিদিন গড়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৭০/৮০ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
“শিশু ওয়ার্ডে স্থান সংকুলন না হওয়ায় প্রতিটি বেডে দুজন, এমনকি ফ্লোরেও রোগী রাখা হচ্ছে।”
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোটা ভাইরাসের প্রভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে জানান এই শিশু চিকিৎসক।
সিভিল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁঞা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। সাধ্যমতো রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওষুধের কোনো সংকট নেই।
“আমরা সব শিশুদের সফলভাবে চিকিৎসা দিচ্ছি, এই পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।”
এক রোগীর স্বজন আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, সদর হাসপাতাল ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীদের তেমন কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। কোনো চিকিৎসকও পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়।
“ওষুধ বা চিকিৎসার কথা বললে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন চিকিৎসক ও নার্সরা। তারা অন্যত্র চিকিৎসার করানোর জন্য বলেন।”
এছাড়া হাসপাতালের শৌচাগার, খাবার পানি ও কক্ষগুলো অত্যন্ত নোংরা বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আনোয়ার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০জন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রোটা ভাইরাসের প্রভাব ও ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
“প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। ওষুধের কোনো সংকট নেই।”
সাধ্যমতো চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এ চিকিৎসক।
