Published : 24 Jul 2026, 07:04 PM
নারীঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবিতে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
এতে দুই হলের অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক। তাদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল আলীম।
শিক্ষার্থীরা জানান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-২ এর দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘কটূক্তি’ করার জেরে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের আট থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর দুই পক্ষের মধ্যে ফোনালাপে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ৬০ থেকে ৭০ শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল হক হলে যান।
এ সময় হলের বিভিন্ন কক্ষ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, জানালার কাচ, সিসিটিভি ও লাইট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে নয় শিক্ষার্থী আহত হন। পরে রাত ৪টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হল প্রভোস্টদের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থীকে শহীদ শামসুল হক হলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শিক্ষার্থী মারধর করেন।

আধা ঘণ্টা পর দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় দুই হলের আরও চারজন আহত হন।
বাকৃবির হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে নয়জন ও শুক্রবার দুপুরে চার শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “মধ্যরাতে মারামারির ঘটনার পরপর আমিসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়টি মীমাংসা করে দেই। কিন্তু আজ আবার নামাজের পর মারামারি শুরু হয়।

“একটা সামান্য বিষয় নিয়ে মারামারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
সেইসঙ্গে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সমাধান করার কথা বলেছেন আব্দুল আলীম।