১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদারীপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ইজিবাইক চালকের মৃত্যুদণ্ড

২০১৯ সালের ১১ জুলাই ইজিবাইকে গন্তব্যে যাওয়ার পথে চালক মেয়েটিকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে জানান পিপি।

মাদারীপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ইজিবাইক চালকের মৃত্যুদণ্ড
মাদারীপুর আদালতে রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2025, 07:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

মাদারীপুর সদর উপজেলার এক কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ইজিবাইক চালককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক শরীফ এ এম রেজা জাকের আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) শরীফ সাইফুল কবীর।

দণ্ড পাওয়া মো. সাজ্জাদ হোসেন খান (৫৫) উপজেলার পূর্ব খাগদী এলাকার বাসিন্দা। সাজ্জাদ পূর্বে শিশু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন এবং ২০১১ সালে মুক্তি পান।

মামলার বরাতে পিপি শরীফ সাইফুল কবীর বলেন, ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই শহরের পূর্ব খাগদী এলাকার একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ওই কিশোরীর বাবা লাশ শনাক্ত করেন।

নিহত ১৫ বছরের ওই কিশোরী উপজেলার বলাইরচর শামসুন্নাহার বালিকা মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা মাদারীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। 

পিপি বলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে ইজিবাইক চালক সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানান সাজ্জাদ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সাজ্জাদ।

তিনি বলেন, “জবানবন্দিতে সাজ্জাদ বলেন, ২০১৯ সালের ১১ জুলাই বৃষ্টির দিনে ওই কিশোরী চরমুগরিয়া যাওয়ার উদ্দেশে তার ইজিবাইকে ওঠেন। অন্য কোনো যাত্রী না থাকায় সাজ্জাদ জোর করে মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করেন। পরে লাশের সঙ্গে বিদ্যুতের তার দিয়ে কয়েকটি ইট বেঁধে পুকুরে ফেলে দেন।”

দুই দিন পর লাশটি ভেসে উঠলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিশোরীকে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন এলাকাবাসী।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরীফ সাইফুল কবীর।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মেয়েটির বাবা বলেন, হত্যাকারী আইনের কাছে জবাবদিহি করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন তিনি।