০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: ‘সন্দেহ-অবিশ্বাস ঘনীভূত হচ্ছে’, বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও পুলিশের ভাষ্যের ‘নানা অসংগতির’ কথা বর্ণনা করে এক স্মারকলিপিতে এই দাবি জানানো হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 03:35 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারকে হত্যার ঘটনায় ‘সন্দেহ-অবিশ্বাস ঘনীভূত হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছে নাগরিকদের একটি সংগঠন। 

এই অবস্থায় রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।   

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও পুলিশের ভাষ্যের ‘নানা অসংগতির’ কথা বর্ণনা করে রংপুর জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এই দাবি জানানো হয়েছে।  

স্মারকলিপিতে মোট ১৪টি পয়েন্টে এসব অসংগতি তুলে ধরে বলা হয়, “একাধিক সম্ভাবনার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একটি মাত্র বয়ানকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কারণে সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও ঘনীভূত হচ্ছে। 

“একটি পরিবারকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার এই ঘটনায় অগণিত যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, যা প্রশাসনের ঝকঝকে বয়ানের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”

স্মারকলিপিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানান নাগরিক কমিটির নেতারা। 

এ সময় উপস্তিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায়, মেহেদী হাসান তরুণ।

২২ অগাস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

আরও পড়ুন:

রংপুরে শিক্ষক পরিবার খুন: বাদী চান আরও গভীর তদন্ত, পুলিশের আশ্বাস

রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: 'মবের' শঙ্কায় কারাগারেই আসামিদের ডোপ

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: মুচলেকা নিয়ে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি

আদালতে জবানবন্দি: গণপতি পরিবারকে খুনের রাতে বন্ধু ‘সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেন’ মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা মামলা ডিবিতে

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের গ্রেপ্তার নিয়ে বাবা

রংপুরে শিক্ষক পরিবারে ৪ খুন: আদালতে দুই আসামির 'স্বীকারোক্তি'

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারকে হত্যার পর খুনিরা 'বাসায় গোসল করে খেজুর খায়'

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়' রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন: পুলিশ

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের আর কেউ রইল না

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়' রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন: পুলিশ

ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে বোনসহ চারজনের লাশ পেলেন পূজা চক্রবর্তী

রংপুরে ৪ খুন: শিক্ষক পরিবারের লাশ পড়েছিল ছাদে-সিঁড়িতে-ঘরে

রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে হত্যা: 'এক ভয়াবহ বার্তা'