“এই ম্যুরাল আমাদের ইতিহাসের ধারাবাহিক দলিল। এটি ঢেকে রাখার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
Published : 27 Mar 2025, 02:48 PM
‘জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায়’ লালমনিরহাট শিশু পার্ক সংলগ্ন ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মঞ্চে’র ম্যুরালটি আবার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন ও সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশল বাংলাদেশ-টিআইবিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বুধবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দিন জেলা প্রশাসন সেই ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। এ নিয়ে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ম্যুরালটিতে ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকার গঠন, চরমপত্র, মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ, বীরশ্রেষ্ঠদের অবদান এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণসহ মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনাবলী তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সনাকের সদস্যরা শহরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দেখেন, দীর্ঘ ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢাকা। বিষয়টি নজরে আসতেই তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন এবং পরে রেলওয়ে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ম্যুরালটি ঢেকে রাখা হয়েছে।”
তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসেও ম্যুরালটি একইভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তখনও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এর প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছিলেন।
এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাকের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম বীরপ্রতীক বলেন, “এই ম্যুরাল আমাদের ইতিহাসের ধারাবাহিক দলিল। এটি ঢেকে রাখার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে এ ঘটনা একটি নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুফী মোহাম্মদ বলেন, “ম্যুরালটি যদি সময়ের সঙ্গে বেমানান হয়, তাহলে সংস্কার করা যেতে পারে। তবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখাটা সার্কাসের মতো আচরণ।”
লালমনিরহাট সনাকের সহ-সভাপতি সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও ইতিহাস ঢেকে রাখা মানে তাদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা। এটি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি।”
সাংবাদিক ও কবি হেলাল হোসেন কবির বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার হটিয়ে সেই জায়গায় ফ্যাসিস্ট আমলা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হলে তাদের কাছ থেকে এর চাইতে বেশি কিছু আশা করা বোকামি। আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”