Published : 14 Jun 2026, 05:12 PM
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ উদ্বোধনে গিয়ে সেখানকার টয়লেট এবং রান্নাঘরের নোংরা পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে গত চার বছর ধরে দায়িত্বে থাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমানকে তিনি সতর্ক করে বলেন, “হাসপাতালের নিয়মানুবর্তিতা, উপস্থিতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি নিশ্চিত না করেন, ‘ইউ হ্যাভ টু ফেস দ্য কনসিকোয়েন্সেস’।”
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এদিন তিনি হাসপাতাল থেকে দেশের আরও নয়টি জেলার সদর হাসপাতালের আইসিইউ কার্যক্রম ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি টয়লেট ও রান্নাঘরের পরিবেশ এবং ব্যবহার অযোগ্য তৈজসপত্র দেখে সিভিল সার্জনসহ দায়িত্বশীলদের উপর ক্ষোভ ঝারেন।
এরপর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা খাতা যাচাই করেন। এ সময় কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক (আউটসোর্সিং) কর্মচারীর অনুপস্থিতি পান। এ নিয়েও সিভিল সার্জনকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সিভিল সার্জন সাহেব, মনে কিছু নেবেন না। উই আর অ্যা টিম। একটা হাসপাতালে মন্ত্রী আসবে, সচিব-ডিজি আসবে…
“আমি দেখলাম আপনার হাসপাতালের অবস্থা! আই অ্যাম ভেরি সরি টু সে, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছি, অন্তত আমার ভয়ে হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছে। কিন্তু আপনি সেটা করেননি।”
পরে তিনি সিভিল সার্জনকে রান্নাঘরের ব্যবহার অযোগ্য তৈজসপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তিন দিনের সময় বেঁধে দেন। একইসঙ্গে টয়লেট পরিষ্কার রাখার নির্দেশনাও দেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালার দায়িত্বে ছিলেন সিভিল সার্জন। তখন তিনি মন্ত্রীর পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “যেসব মালামাল সেখানে রেখেছেন, অনেককিছু অপ্রয়োজনীয়। দাহ্য পদার্থ আছে সেখানে, আগুন লাগলে একটা মানুষ বাঁচতে পারবে না। আপনাদের তো ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, আপনারা অব্যবহৃত জিনিস বিক্রি করে দেন।”
“এই ধরনের কালো পাতিলে রান্না মানুষ খায়? এই রকম পাতিল আপনার ঘরে রাখবেন? এইখানে রান্না করে আমাদের মানুষকে খাওয়াবেন? হতে পারে তারা গরীব…কিন্তু আমি আর এইটা দেখতে চাই না।”
এ সময় মন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে চার বছর ধরে সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমানের দায়িত্বে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনদিনের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “গত তিনমাস ধৈর্য ধরেছি। চার বছর ধরে আপনি এখানে আছেন। আপনাকে প্রশ্ন করলে আরেকদিকে তাকিয়ে থাকেন, কেন? আপনাকে জানতে হবে সবকিছু।

“দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফরগেট দ্য পাস্ট। অতীতের মতো স্বাস্থ্যসেবা বা কোনো কাজে কোনো কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
“আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন চান। এই সরকার বরাবরের সরকারের মতো নাই। তাই এই সরকারের সকল কর্মচারীদেরও নিজেদেরকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে, কাজ করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। আমাদের সঙ্গে সচিবালয়ে অফিস করেন।”
দেশে ১৫০০ শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ ও দূর-দূরান্ত থেকে রোগীদের বহনে হেলিকপ্টার-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা নিশ্চিতের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত হামের টিকা সংগ্রহ এবং জরুরি ভিত্তিতে ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সরবরাহ করার মাধ্যমেই হাম পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, “জিনিসগুলো তড়িৎ গতিতে না দিতে পারলে হাম মোকাবেলা করতে পারতাম না। আমরা কিন্তু এগুলো কিনি নাই। প্রাইভেট সেক্টর এত বেশি বিশ্বস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর যে, তারা দুহাত দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সামনে ডেঙ্গু মোকাবেলা করার জন্য এক লাখ স্যালাইনও দিয়েছেন।”
তবে ডেঙ্গু মোকাবেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।