Published : 23 Apr 2026, 08:32 PM
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাতবোমার বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নগরের শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান।
রাজশাহী মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখির নেতৃত্বে হামলার ঘটনা বলে অভিযান একপক্ষের। তবে রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রফিকুল ইসলাম।

বুধবার তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পক্ষের কয়েকজনের হাতে সাধারণ শ্রমিকরা লাঞ্ছিত হন। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগের দিনের ঘটনার জেরে এদিন দুপুর থেকে শিরোইল এলাকায় অবস্থান নেন রফিকুলবিরোধী শতাধিক শ্রমিক। অন্যদিকে নগরের রেলগেইট এলাকায় জড়ো হন রফিকুলের অনুসারীরা। উভয়পক্ষের হাতেই দেশি অস্ত্র দেখা যায়।
পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রফিকুল বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীসহ দুই শতাধিক লোকের মিছিল নিয়ে শিরোইল এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে পৌঁছামাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বোমা বিস্ফোরণে প্রতিপক্ষ শ্রমিকরা পিছু হটলে রফিকুলের অনুসারীরা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় তারা আশপাশের কয়েকটি দোকান, ভবনের কাচ এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। প্রায় এক ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে তারা পুনরায় রেলগেইট এলাকায় ফিরে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। ঘটনার পর থেকে শিরোইল বাস টার্মিনালসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মোটর শ্রমিক নেতা রফিকুল বলেন, “আওয়ামী লীগের শ্রমিক নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে কার্যালয়ে তালা দিয়েছিল। আমরা কার্যালয় উদ্ধার করেছি। এখন কোনো সমস্যা নেই।”
কথা বলার জন্য সংঘর্ষের পর রফিকুলবিরোধী শ্রমিকদের নেতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমিনকে দেখা যায়নি। তবে সংঘর্ষের আগে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানের সময় শ্রমিকরা বলছিলেন, তাদের এখন নির্বাচিত নেতৃত্ব নেই। সংগঠন দখল করা হয়েছে। তারা এখন নির্বাচন চান।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, দুপক্ষই সরে গেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা অতিরিক্ত ফোর্স পাঠিয়েছি। আর কেউই আইনের বাইরে নয়। ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা আছে। ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”