১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গরু চুরির অভিযোগে শালিসে তিনজনকে নির্যাতন, চোখে-মুখে চুন

এ সময় আহতরা আকুতি জানালেও মেলেনি পানি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 08:53 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করার পর শালিস বসিয়ে তাদের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠেছে। 

এ সময় তিনজনের চোখে-মুখে চুন মেখে দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের চোখের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর একজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।   

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান। 

নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন- দোয়ারাবাজারের আবু বক্কর (৩৫), নিজাম উদ্দিন (৩০) এবং ছাতক উপজেলার সোনাই মিয়া (২৫)। তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এতে দেখা যায়, তিন যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন, তাদের চোখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে চুন লাগানো এবং তারা যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরে ওই এলাকার এক ব্যক্তির দুটি গরু চুরি হয়। গরু নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী সোনাই মিয়াকে ধরে ফেলেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবু বক্কর ও নিজামকে আটক করা হয়। 

সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ আলী ও বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলমসহ কয়েকশ মানুষের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে শালিস বসে।

শালিসের মধ্যেই হাত-পা বেঁধে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এতে কুঠারের আঘাতে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে যায়। পরে তিনজনেরই চোখে-মুখে চুন ঢেলে দেওয়া হয়। এ সময় তারা পানি খেতে চাইলেও দেওয়া হয়নি। 

এ ব্যাপারে শালিসে উপস্থিত ইউপি সদস্য হানিফ আলীর মোবাইলে ফোন করা হলে, তিনি বলেন, “এখন থানায় ব্যস্ত আছি। পরে ফোন দেন।” 

এই বলে তিনি মোবাইলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।    

অপরদিকে বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম বলেন, “চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনতা। তারাই মারধর করেছে। মামলা করলেও আসামিরা সহজে জামিনে বেরিয়ে যায়। তাই শালিস বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছিল, চোর ধরা পড়লে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে, এতে কেউ মারা গেলেও শালিস বোর্ডই দেখবে।”

ঘটনার পর পর পুলিশ গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”