Published : 10 Jan 2026, 04:06 PM
এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের প্রধান-সহপ্রধান নিয়োগের জন্য শিক্ষার তিন অধিদপ্তরের কাছে শূন্য পদের তথ্য চেয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসি।
আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারেনটেনডেন্ট, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী সুপারেনটেনডেন্টের শূন্যপদের তথ্যের অনলাইন সফটকপির তালিকা চেয়ে তিন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
এনটিআরসিএর পরিচালক তাসমিন জেবিন বিনতে শেখ শনিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহপ্রধান পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পদগুলোতে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম চালাতে আমরা মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে শূন্যপদের তথ্য চেয়ে গত ৬ জানুয়ারি চিঠি পাঠিয়েছি।"
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ৬ অক্টোবর এ পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফলে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে এ প্রশাসনিক পদগুলো খালি রয়েছে। ফলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাজও থমকে আছে।
এদিক নিয়োগ স্থগিত করার তিন মাস পরে এসেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রধান-সহপ্রধান নিয়োগ সুপারিশ কী প্রক্রিয়ায় চালানো হবে তা চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রধান ও সহপ্রধান না থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্থবিরতা শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও এনটিআরসিএ অনুধাবন করছে বলে তুলে ধরে পরিচালক তাসমিন জেবিন বিনতে শেখ বলেন, “এসব পদে নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া কিভাবে হবে-তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি।
“নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চালু রেখে আমরা শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহের মত কিছু ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’ করে রাখছি, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেই এ পদগুলোতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা যায়।”
এসব পদে আলাদা পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিধান আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তা ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ওই পরিপত্রের আলোকে এনটিআরসিএ এ পদগুলোতে নিয়োগ কার্যক্রম চালাতে পারবে।”
এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণে আমরা কিছু দিন আগে কর্মশালা করেছি। আশা করছি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিছুদিনের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে পরিপত্র জারি করবে।
“এদিকে আমরা তিন অধিদপ্তরের কাছে শূন্যপদের তথ্য চেয়েছি, যাতে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারি হলেই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা যায়।”
আর এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পদে ৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করতে শনিবার থেকে নিবন্ধিত প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
এর মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি শিক্ষার তিন অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির ৮ অক্টোবরের সভার সিদ্ধান্ত মতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধানের নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অধিদপ্তরভিত্তিক নির্ভুল শূন্যপদের চাহিদা অনলাইন সফটকপি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
নির্ধারিত 'ছকে' শূন্যপদের তথ্য ও প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য অন্তুর্ভুক্ত করে অনলাইন সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে অধিদপ্তরগুলোকে।
২০১৫ সাল থেকে এনটিসিআর-এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ দেওয়া হতো প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে।
কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।