Published : 26 Aug 2025, 05:47 PM
জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-জাবিপ্রবির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নুর হোসেন চৌধুরী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগে গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট ‘গণতদন্ত কমিশনের’ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শাস্তি পাওয়াদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সহকারী রেজিস্ট্রার আনিসুজ্জামান, প্রকৌশলী শহীদুজ্জামান, সেকশন অফিসার রাসেল মাহমুদ ও মোতাব্বির হোসেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মির্জা হালিম ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী সোহাগ সরকার। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শাস্তি পাওয়া ৪৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে নয়জন ছাত্রী এবং ৩৬ জন ছাত্র; যাদের বেশিরভাগ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাওসার আহমেদ স্বাধীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক পলাশকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রীদের নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের নেত্রী প্রিয়া সরকার, ছাত্র হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম ইমন এবং ছাত্রলীগের আহ্বায়ক স্বাধীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিনসহ সাতজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসির আরাফাত সৌরভ, মোকাররম হোসেন, মোশারফ হোসেন, আভিমান সরকার, সেবক দাস, মাসুদ রানা, ইতিসার সানি ইমন, ছাত্র হল শাখার সাধারণ সম্পাদক সকলাইন এবং ছাত্রী হল শাখার সভাপতি ঐশীসহ যেসব শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, তাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে। তুলনামূলক কম অপরাধে জড়িত ২৪ শিক্ষার্থীকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নুর হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি, ২০১৯ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।