ধর্মঘট প্রত্যাহার, কাজে ফিরেছেন ওসমানী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে রোগীদের সেবা বন্ধ রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন।

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 07:31 AM
Updated : 4 August 2022, 07:31 AM

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তিন দিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেছেন।

দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে রোগীদের সেবা বন্ধ রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন।

পুলিশ হামলাকারীদের একজনকে গ্রেপ্তার করায় এবং কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহমদ মুন্তাকিম চৌধুরী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রধান আসামি দিব্য সরকার গ্রেপ্তার হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।“

মুন্তাকিম বলেন, “বৈঠকে আমরা সাত দিনের সময় দিয়েছি। এর মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

রোববার রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের ঝগড়া দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। পুলিশ ও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, ওই রাতে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজনরা দায়িত্বে থাকা এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করেন। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার জেরে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে একদল ‘বহিরাগত’। তাদের পিটুনিতে আহত হন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুদ্র নাথ এবং শেষ বর্ষের নাইমুর রহমান ইমন।

এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মেডিকেলের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়ে মঙ্গলবার থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেবা বন্ধ করে দেন। ফলে ব্যাহত হয় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।

এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে যৌন হয়রানি এবং কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ওই মামলার প্রধান আসামি দিব্য সরকারকে পুলিশ সিলেট শহরের শাহপরাণ এলাকা থেকে বুধবার রাত ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করে। তার আগে মঙ্গলবার রাতে ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিদ হাসান রাব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দা এহসান আহম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ।

এরপর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রশসানের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা হলে দুপুর ১২টা থেকে সব বিভাগে কাজে ফিরতে শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে ফেরায় হাসপাতালের সেবা অব্যাহত রয়েছে।“

হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক