০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রয়াত বাবার পথ ধরে শ্রীমঙ্গলে অজগর উদ্ধার করলেন সজল

“একটি অজগর বিপদে আছে- এই খবর শুনে মনে হয়েছে, এটি বাবারই কাজ। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হবিষ্যান্নের পোশাকেই বেরিয়ে এসেছি “

প্রয়াত বাবার পথ ধরে শ্রীমঙ্গলে অজগর উদ্ধার করলেন সজল
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘হবিষ্যান্ন’ পোষাক পরেই অজগর সাপ  উদ্ধার করেন প্রয়াত শীতেশ রঞ্জন দেবের ছেলে স্বপন দেব সজল।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jul 2026, 05:38 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

মাত্র দুই দিন আগে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের সুপরিচিত বন্যপ্রাণী প্রেমী সিতেশ রঞ্জন দেব। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার জন্য ‘হবিষ্যান্ন’ পালন করছেন বড় ছেলে স্বপন দেব সজল। কিন্তু এর মধ্যেই একটি অজগর সাপ বিপদে পড়ার খবরে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করলেন তিনি।  

এর মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ব সাপ দিবসের দিনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি অজগর সাপ উদ্ধারের ঘটনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।

স্বপন দেব সজলের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে ছিলেন পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড়। পরে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

সজলের বাবা সিতেশ রঞ্জন দেব ছিলেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

স্বপন দেব সজল বলেন, “বাবা সবসময় বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী হবিষ্যান্ন পালন করছি। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী এ সময় ঘরের বাইরে বের হওয়ার কথা নয়। 

“কিন্তু একটি অজগর বিপদে আছে-এই খবর শুনে মনে হয়েছে, এটি বাবারই কাজ। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হবিষ্যান্নের পোশাকেই বেরিয়ে এসেছি। আমি ও আমার ভাই যতদিন বেঁচে থাকব, বাবার শুরু করা এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।”

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার যোবায়ের আহমেদের বাড়িতে অজগর সাপটি দেখা যায়। 

পরিবারটির সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরেই তাদের হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাচ্ছিল। সকালে হঠাৎ তারা দেখতে পান, একটি বড় অজগর বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের গাছের দিকে যাচ্ছে। 

যোবায়ের আহমেদ বলেন, “অনেকেই সাপটিকে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা শীতেশ দেবের বাসায় ফোন করি। কিছুক্ষণ পরই তার বড় ছেলে এসে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এতে আমরা খুবই স্বস্তি পেয়েছি।”

শ্রীমঙ্গলের ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বিশ্ব সাপ দিবসে এই উদ্ধার অভিযান যেন শুধু একটি অজগর সাপকে রক্ষা করার ঘটনাই নয়, বরং প্রয়াত সিতেশ রঞ্জন দেবের বন্যপ্রাণীর প্রতি আজীবনের ভালোবাসা ও মানবিক আদর্শের উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের হাতে অটুট থাকার এক আবেগঘন বার্তাও হয়ে উঠেছে।”

আগের সংবাদ

বন্যপ্রাণীর অকৃত্রিম বন্ধু সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই