Published : 29 Jul 2026, 07:47 PM
পটুয়াখালীতে বিয়ের প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বুধবার বলেন, আদালতের আদেশ পেয়ে অভিযোগটি মামলা হিসেবে এজাহার করা হয়েছে।
আসামি মো. শহিদুল ইসলাম জামায়াতের ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য।
মামলার বরাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এক সন্তানের জননী ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সদর থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় বলা হয়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।
২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। ১৮ মে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর পর পর দিন জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
মামলার পর থেকেই জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম পলাতক আছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এরই মধ্যে তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেন পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান।