Published : 22 Aug 2025, 01:37 PM
কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজত থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন।
শুক্রবার ভোরে থানা হাজতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
২৭ বছর বয়সী দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা কমল চৌধুরীর ছেলে। তিনি চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে থানায় নিয়ে এসেছিল এবং একটা মামলা দেয়। যেহেতু মামলাটি দুদকের শিডিউলভুক্ত তাই আমরা জিডি নিয়েছি।
“রাতের সাড়ে ১১টা থেকে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে ভোরে হঠাৎ হাজতের ভেতরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা।”
দুর্জয়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্জয় সপ্তাহখানেক আগে ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে কথা হয় দুর্জয়ের চাচাতো ভাই সঞ্জীব দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সকালে ফোন পেয়ে আমরা থানায় গেলে পুলিশ জানায় সে হাজতে সুইসাইড করেছে। সেখানে গিয়ে আমরা তাকে শার্টে পেঁচানো অবস্থায় ফাঁসিতে ঝুলন্ত দেখেছি, হাজতের ভেতরে কী হয়েছে বা পুলিশ তাকে প্রেসার দিয়েছে কি-না জানি না।”
সঞ্জীব প্রশ্ন তোলেন, “হাজতের বাইরে তো কনস্টেবল থাকার কথা। তাহলে কি তিনি দায়িত্বে ছিলেন না?”
দুর্জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পরিবার অবগত ছিল কিনা জানতে চাইলে সঞ্জীব বলেন, তার নামে একটি চেক জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি, বা কোনো প্রকার তদন্ত করা হয়নি। অভিযোগ বিষয় জানতে থানায় গেলে দুর্জয়কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, খবর পেরে রাত সাড়ে ১২টায় পরিবারে লোকজন খাবার ও ঔষুধ নিয়ে দু্র্জয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন থানা হেফাজতে দায়িত্ব থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিনকে জানানো হয় দু্র্জয় এক সপ্তাহ আগে স্ট্রোক করছিল, তার শ্বাসকষ্টজনিত রোগ আছে।
দু্র্জয় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত তাই তাকে যেন ভালভাবে নজর রাখে সে অনুরোধও করেছিল পরিবারের সদস্যরা।
“এই সময় তার মার সাথে কথা বলে দুর্জয়। মাকে বলে- মা আমি কোনো ভুল ত্রুটি করি নাই। আমাকে ভুল বুঝিও না, আমি ট্রমার মধ্যে আছি”- বলেন সঞ্জীব।
তবে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দুর্জয়ের কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ তাকে থানায় সোপর্দ করেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার করা মামলায় রাত ১১টায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা অভিজিত দাশ আরও বলেন, “কিছুটা দূরত্বের কারণে আত্মহত্যার দৃশ্য সরাসরি ধারণ না হলেও দুর্জয়ের চলাফেরা ও অন্যান্য কার্যকলাপের দৃশ্য থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।”
পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে সুরতহাল করেছেন। লাশ উদ্ধার করে সকাল ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। তদন্ত কমিটি নিরুপণ করবে ঘটনাটি কী ছিল এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসবে আসল ঘটনা।”